শেখ হাসিনার পক্ষে চিঠি দিলে আইনি ব্যবস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনার পক্ষে চিঠি দিলে আইনি ব্যবস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তরাজ্যের কোনো আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মেইলে কোনো চিঠি আসেনি বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ রকম উড়োচিঠি আসার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের কোনো কার্যক্রম বিতর্কিত হবে না। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা সম্পর্কে চিঠির মধ্যে যা বলা হয়েছে, তা কোনো ল ফার্মের আইনগতভাবে বলার অধিকার নেই। কারণ, শেখ হাসিনা পলাতক। 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘অফিশিয়ালি যদি আমাদের কাছে এই চিঠি আসে, তাহলে আমরা মনে করি এই চিঠির যা ভাষা, এই চিঠির যা বক্তব্য, এটা একেবারেই আদালত অবমাননার শামিল।’ 

আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি এলে ওই আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং যাদের পক্ষে আসবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে ‘কিংসলে নেপলি’ নামের যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের এই প্রতিষ্ঠানটি ৮০ বছরের বেশি সময় ধরে আইনি সেবা দিয়ে আসছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, গতকাল বুধবার তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারেন, কিংসলে নেপলি শেখ হাসিনার পক্ষে একটি চিঠি দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) মেইলে এ রকম কোনো চিঠি আসেনি। কিছু সাংবাদিক কীভাবে পেয়েছেন, তা তিনি জানেন না। একজন সাংবাদিক তাকে হোয়াটসঅ্যাপে সেই চিঠির একটি কপি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সেই চিঠির কপি থেকে যেটুকু পড়েছেন, তার ওপরে অ্যাড্রেস আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নিচে লেখা আছে ‘ডিয়ার আইসিটি’। চিঠির প্রথম প্যারাগ্রাফে লেখা আছে, উই অ্যাক্ট অন বিহাফ অব শেখ হাসিনা (শেখ হাসিনার পক্ষে)। এটুকু পড়লেই বোঝা যায়, কত মানের ইমম্যাচিউরড (অপরিপক্ব) একটা লেটার যে কীভাবে কাকে অ্যাড্রেস করতে হয়, তা তারা জানেন না।’

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “ট্রাইব্যুনালের কোনো বিচারককে যদি অ্যাড্রেস করতে হয়, তাহলে কি ‘ডিয়ার আইসিটি’ বলবে নাকি ‘অনারেবল জজ’? যদি ব্রিটিশ ল ফার্মের পক্ষ থেকে হয়, তাহলে তাদের এটুকু জানার কথা। এটা তো মনে হচ্ছে একেবারে একটা ভুয়া চিঠি। কিংবা কোনো ভুয়া ল ফার্ম থেকে হচ্ছে কি না; কেরানীগঞ্জ-জিঞ্জিরা থেকে হচ্ছে কি না, তা বলা যাচ্ছে না।”

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এক রায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ওই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। ওই মামলার রায়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে (অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।