গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধর, কেটে ফেলতে হয়েছে একটি পা

অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন, মামলা করলে প্রাণনাশ করা ও লাশ গুম করে দেওয়া হবে।

গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধর, কেটে ফেলতে হয়েছে একটি পা

বিশেষ প্রতিনিধি

গাজীপুরে দাবি করা চাঁদা না পেয়ে এক নির্মাণ ঠিকাদারকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলায় ঠিকাদারের একটি পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে সেই পা কেটে ফেলতে হয়।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) গাজীপুর প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা জানান ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. ওয়াসিম (৩৬) ও তার পরিবারের সদস্যরা। 

আহত ওয়াসিম গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

অভিযুক্ত এস. এম. মোমিনুর রহমান মমিন গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। তিনি পাশের গাছা থানার পার্শ্ববর্তী ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী ওয়াসিমের স্ত্রী মোছা. মুন্নী আক্তার ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মোমিনুর রহমান মমিন ও তাঁর সহযোগীরা ওয়াসিমের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা চাঁদা না পেয়ে তারা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে ওয়াসিমকে আঘাত করেন। হামলায় তার ডান পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে বাধ্য হয়ে সেই পা কেটে ফেলতে হয়।

মুন্নী আক্তার অভিযোগ করেন, একাধিকবার চেষ্টা করেও গাছা থানায় মামলা করতে পারেননি। পরে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) গাজীপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন তারা। আদালত ঘটনাটি এফআইআরভুক্ত করার জন্য থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

মুন্নী আক্তার আরও জানান, বর্তমানে তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন, মামলা করলে প্রাণনাশ করা ও লাশ গুম করে দেওয়া হবে।

তিনি অবিলম্বে মামলা রুজু, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমি এই থানায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। অভিযোগ নিয়ে এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযুক্ত এস. এম. মোমিনুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ধরেননি। 

তবে সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, ওয়াসিম একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে ১০-১২টি মাদক মামলা রয়েছে। তার এই ঘটনা ঘটেছে অন্য কারও সঙ্গে। ঘটনার ১০-১২ দিন পর ওয়াসিমের বড় ভাই তার কাছে যান এবং পূর্বপরিচিত হিসেবে তিনি ওয়াসিমকে পঙ্গু হাসপাতালে দেখতেও গিয়েছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন বলে তিনি জানান।

মোমিনুর রহমান আরও বলেন, ওয়াসিমের পরিবার মীমাংসার অনুরোধ করলে বিএনপির এক নেতার মধ্যস্থতায় হামলাকারীদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওয়াসিমের পরিবারকে দেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, ‘পরশু দিন থেকে শুনছি আমাকে হুকুমের আসামি করা হচ্ছে। ঘটনার সময় করা অভিযোগে আমার নাম ছিল না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করতে এ কাজ করিয়েছে।’