বিশেষ প্রতিনিধি
কাপাসিয়া উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ মানুষ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোররাত থেকেই তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমরাইদ বাজারের মোল্লা পেট্রোল পাম্প থেকে বড়হর নতুন বাজার পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে নসিমন, পিকআপ ও স্কুলবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন। এমনকি একটি অ্যাম্বুল্যান্সকেও লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
সকাল থেকে ঢাকা–কিশোরগঞ্জ সড়কের মোল্লা ফিলিং স্টেশনের সামনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার বিবাধিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান (৪৫) জানান, ভোররাতেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন; কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও পাম্পের কাছাকাছি যেতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এখনো অন্তত দুই ঘণ্টা লাগবে সামনে যেতে। উত্তরায় একটি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসে চাকরি করি। এভাবে সমস্যা হলে চাকরি করব কীভাবে?’
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরকারি কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘২০০ টাকার তেল পাওয়া যাচ্ছে। আসা-যাওয়ার তেলই শেষ হয়ে যায়। এখন কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।’
নসিমনচালক আমান উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাত তিনটায় এসেছি, এখন দুপুর। আমার একমাত্র সম্বল এই নসিমন। বিকেলে আর কী কাজ করব? প্রতিদিন পাম্পে তেল পাওয়া যায় না, জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মমিন মিয়া জানান, আমরাইদ বাজার থেকে বড়হর বাজার ছাড়িয়ে আজকের লাইন অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বাইকারদের ক্রমাগত আগমনে শিগগিরই এই লাইন মিয়ার বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মোল্লা ফিলিং স্টেশনের মালিক জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, ‘তেল দিচ্ছি, কিন্তু উপচে পড়া ভিড় সামলাতে কষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত লোক দিয়ে লাইন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’
জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সংগঠক ও স্টেশন ট্যাগ অফিসার জানান, কাপাসিয়ায় ছয়টি পাম্পের মধ্যে একটি—দ্বীন ফিলিং স্টেশন—মালিকানা দ্বন্দ্বের কারণে তেল সরবরাহ করছে না। তা ছাড়া মোল্লা ফিলিং স্টেশন গত দুই দিন তেল আনতে পারেনি। ফলে আজ চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।