যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াল ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াল ট্রাম্প

রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। 

মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সাত সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের অনুরোধে তিনি ইরানে হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের নেতারা ও প্রতিনিধিরা একটি সমন্বিত প্রস্তাব উপস্থাপন করতে এবং আলোচনা চূড়ান্ত করতে পারেন — সে সুযোগ দিতেই এই বিরতি বাড়ানো হয়েছে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা একতরফা বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান বা মার্কিন মিত্র ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইরানের বন্দর ও উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন। ইরানের নেতারা এই অবরোধকে যুদ্ধের শামিল বলে আখ্যায়িত করে আসছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কোনো অনুরোধ করেনি এবং মার্কিন অবরোধ বলপূর্বক ভাঙার হুমকি পুনরায় দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিবৃতিতে বলেন, “ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নিঃসন্দেহে একটি ফাঁদ — অতর্কিত হামলার সুযোগ নেওয়ার কৌশল। ইরানের উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।”

ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার এই মুহূর্তে গভীরভাবে বিভক্ত। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে হত্যার পর তাঁর পুত্র নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পাকিস্তানের অনুরোধ সাদরে গ্রহণ করায় ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তবে এই দ্বিতীয় দফা আলোচনা কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে — বা আদৌ হবে কি না — তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এর আগে ট্রাম্প বারবার ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল এই হুমকির নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।