এবার মার্কিন নৌবাহিনীর সচিব বরখাস্ত

এবার মার্কিন নৌবাহিনীর সচিব বরখাস্ত

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি ‘তাৎক্ষণিক কার্যকরে’ প্রশাসন ছেড়ে যাচ্ছেন। তবে বিবৃতিতে কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ পায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র জানিয়েছে, জাহাজ নির্মাণ সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে ফেলানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, তাঁর ডেপুটি স্টিভ ফেইনবার্গ এবং নৌবাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা হাং কাওয়ের সঙ্গে ফেলানের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়েছিল। এ ছাড়াও ফেলানের দপ্তরের বিরুদ্ধে একটি নৈতিকতা-সংক্রান্ত তদন্ত চলছিল বলেও সূত্রটি উল্লেখ করে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হিসেবে এখন দায়িত্ব নেবেন হাং কাও।

ট্রাম্প প্রশাসনে ফিরে আসার পর এটিই প্রথমবার কোনো প্রশাসন-মনোনীত সার্ভিস সেক্রেটারিকে বরখাস্ত করা হলো। কোটিপতি ব্যবসায়ী ফেলান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের অধীনে পেন্টাগনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত বছর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান বিমানবাহিনীর জেনারেল সি কিউ ব্রাউন, নৌবাহিনীর প্রধান এবং বিমানবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২ এপ্রিল কোনো কারণ না দেখিয়েই সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র‍্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেন হেগসেথ।

এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য সিনেটর জ্যাক রিড। তিনি বলেন, ‘এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সেক্রেটারি হেগসেথের অধীনে প্রতিরক্ষা বিভাগে যে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা চলছে, তারই আরেকটি নিদর্শন।’

ফেলানের বরখাস্তের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধবিরতি চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরও বেশি নৌসম্পদ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ওপর অবরোধ কার্যকর রাখতে নৌবাহিনীর ওপর নির্ভর করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন এই চাপ তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে সাহায্য করবে।

নৌবহর সম্প্রসারণেও রয়েছে ব্যাপক চাপ। চীনের জাহাজ নির্মাণ শিল্প এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বহু গুণে ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্পের ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাবে জেনারেল ডায়নামিক্স ও হান্টিংটন ইঙ্গলস ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি ১৮টি যুদ্ধজাহাজ ও ১৬টি সহায়ক জাহাজ কেনার জন্য ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেন্টাগন এটিকে ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ উদ্যোগ বলে অভিহিত করেছে এবং কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৬২ সালের পর এটিই সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাণ বরাদ্দ।