তামিমের কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট মামলা

অ্যাডহক কমিটি গঠন ‘অবৈধ’ ঘোষণার নির্দেশনার পাশাপাশি কমিটি গঠনে জারি করা প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।

তামিমের কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট মামলা

গাজীপুর কণ্ঠ, খেলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে সভাপতি করে গঠিত অ্যাডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছেন কয়েকজন আইনজীবী।

ওই অ্যাডহক কমিটি গঠন ‘অবৈধ’ ঘোষণার নির্দেশনার পাশাপাশি কমিটি গঠনে জারি করা প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থগিতাদেশও চাওয়া হয়েছে তাদের আবেদনে।

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়াসহ সাত আইনজীবী বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন।

সেখানে বলা হয়, সাবেক ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি নির্বাচন নিয়ে হাই কোর্টে একটি রিট হলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরে চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করলে গত ৬ অক্টোবর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ক্রীড়া শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, একজন বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ওই নির্বাচন ‘ত্রুটিপূর্ণ’ প্রমাণিত হয়েছে। এই যুক্তিতে ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮’-এর ২১ ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ১১ সদস্যের একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।

তামিম ইকবালকে সভাপতি করে গঠিত এই অ্যাডহক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ফাহিমা সিনহা, রবিউল ইসলাম বাবু, মির্জা সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, আতাহার আলী খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।

রিটকারী আইনজীবীদের অভিযোগ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই সিদ্ধান্ত ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ এবং তা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতিমালা বা ‘প্রিন্সিপাল অব ন্যাচারাল জাস্টিসের’ লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে আইনজীবী গোলাম কিবরিয়সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮-এর যে ধারার কথা বলে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে কোনো নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়ার সুযোগ নেই।”

অ্যাডহক কমিটি গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আইনে অ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট দুটি কারণ বলা আছে, যার কোনোটিই এখানে বিদ্যমান নেই। একটি বিধিবদ্ধ সংস্থার নির্বাচিত কমিটিকে এভাবে বেআইনিভাবে ভেঙে দেওয়া সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি।”

‘খুব শিগগিই’ রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হবে বলে জানান এই আইনজীবী।

নির্বাচন নিয়ে আগে যা হয়েছে

গোলাম কিবরিয়া বলেন, অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনের আগে কাউন্সিলরদের বাইরে তালিকা দেওয়ার কারণে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি হিসেবে সবগুলা কাউন্সিলে চিঠি দিয়েছিলেন, যেন তালিকা সংশোধন করে পাঠানো হয়।

“পরে ওই চিঠি চ্যালেঞ্জ করে চারজন পিটিশনার হাই কোর্টে রিট করেন। রিট করার পর হাই কোর্ট ওই চিঠিটাকে ‘স্টে’ (স্থগিত) করে দেয়, যার কারণে নির্বাচনটা থেমে গিয়েছিল। হাই কোর্টের ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার কোর্টে যাওয়ার সাথে সাথেই আদালত হাই কোর্টের স্টে অর্ডারটি স্থগিত করে দিয়ে নির্বাচন করতে বলেন। যার ফলে নির্বাচনটা সম্পন্ন হয়েছে।”

সাবেক সভাপতি বুলবুলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে গোলাম কিবরিয়া বলেন, “বুলবুল সাহেব যে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন যে ‘আমি এখনও বৈধ সভাপতি এবং আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব’, এর কারণ হল বিষয়টি (চিঠি নিয়ে আগের রিট মামলা) এখনও পেন্ডিং আছে।

“চেম্বার কোর্টের স্টে অর্ডারে থাকার মানে হল, মূল রিটটি এখনও হিয়ারিংয়ে (শুনানির অপেক্ষায়) আছে। এটি এখন হয়ত সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে, না হয় হাই কোর্টের যে কোনো বেঞ্চে শুনানি হবে। আদালতের অর্ডারে এটাই লেখা আছে।”

নিজেদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করে এ আইনজীবী বলেন, “আগের ওই রিট বা

নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো কাজ করিনি। ওই রিটের হিয়ারিংয়ের বিষয়ের সাথে আমাদের বর্তমান কাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা মূলত আজকে শুধু ‘অ্যাডহক কমিটি’কে চ্যালেঞ্জ করেছি।

“নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ কমিটি ভেঙে দিয়ে তারা যে এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে এবং তারা যে এটা করতে পারে না—আমরা শুধু এই একটা বিষয়কেই চ্যালেঞ্জ করেছি।”

সূত্র : বিডিনিউজ