গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের সব কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বর্জ্য ফেলা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (০৪ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
অন্তর্বর্তী আদেশের পাশাপাশি আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অননুমোদিতভাবে এসটিএস নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন আইনবহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে উদ্যান ও বনভূমির ক্ষতির জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে কেন ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রুলে আরও বলা হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরকে উদ্যান ও বনভূমির সীমানা নির্ধারণ, প্রাকৃতিক বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, পর্যটন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিটের (নং–৫০৯৮/২০২৬) প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন। বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাঁকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রুমানা শারমিন ও তৌহিদুল আলম।
মামলার বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন উদ্যানের মূল ফটকসংলগ্ন এলাকা ও সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে বর্জ্য ফেলে আসছে। এতে উদ্যানের পরিবেশ, প্রতিবেশব্যবস্থা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বন অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কিছু সময়ের জন্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার তা শুরু হয়। পাশাপাশি উদ্যানসংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অননুমোদিতভাবে এসটিএস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণে বিরত থাকার অনুরোধ জানালেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে উদ্যানের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বেলা আদালতের শরণাপন্ন হয়। গত ২৩ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আসে, যেখানে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় বর্জ্যের ভাগাড় গড়ে তোলা হচ্ছে।