তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান বাড়াচ্ছে বিজেপি, এগিয়ে ২০০ আসনে

তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান বাড়াচ্ছে বিজেপি, এগিয়ে ২০০ আসনে

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে আজ।

সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ইভিএম-এর ভোটগণনা শুরু হয়। 

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে হঠিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে অনেকখানি এগিয়ে গেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলাকালে প্রাপ্ত প্রাথমিক ফলাফলে এই চিত্র উঠে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিকাল সাড়ে ৫টায় (বাংলাদেশ সময়) এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিজেপি ২০০টি আসনে এগিয়ে ছিল। আর ৮৭টিতে এগিয়ে ছিল ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। 

২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের প্রয়োজন ১৪৮ আসনে জয়।

এদিকে, ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। 

ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে আছেন। এখানে পিছিয়ে আছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী।

আনন্দবাজার বলছে, ষষ্ঠ রাউন্ড গণনার শেষে ভবানীপুরে শুভেন্দুর প্রাপ্ত ভোট ১১,১৫৫। মমতার প্রাপ্ত ভোট ৩০,৫৪৮। ব্যবধান ১৯,৩৯৩।

ভোট গণনা চলাকালে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, সাংবাদিকদের শুভেন্দু বলেন, ‘বিজেপি সরকার গঠন করছে। প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি ১৩৫-এর বেশি এবং তৃণমূল প্রায় ১০০টি আসন পাচ্ছে। শুরুতে ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। প্রথম রাউন্ডের গণনায় ১৪টি বুথের মধ্যে ৬টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। গতবার তারা সেই ভোটের ৯০-৯৫ শতাংশ পেত, কিন্তু এবার তা হয়নি; সেখানে ফাটল ধরেছে। আমি ৮টি হিন্দু বুথে এগিয়ে আছি। ভবানীপুরে ৯-১০ নম্বর রাউন্ড থেকে আমিই এগিয়ে থাকব।’ 

বিজেপির এই উত্থানের কারণ ব্যাখ্যা করে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘সেখানে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে, সেই সাথে হিন্দুরা পদ্মফুলের (বিজেপির প্রতীক) পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি খুব ভালো সংকেত… এছাড়া মুসলিম ভোটেও বিভাজন হয়েছে, বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে।’

এদিকে, তৃণমূল আসন সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, প্রার্থী কিংবা তার কাউন্টিং এজেন্ট, কেউ যেন ভেঙে না পড়েন। প্রথম দিকে বিজেপি যে এগিয়ে থাকবে, সে কথা তিনি আগেই বলেছেন। তাই সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন দলের সকলকে। মমতার দাবি, জয় তৃণমূলেরই হবে।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, ‘দয়া করে কোনো (তৃণমূল) প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে আসবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান (পরিকল্পনা)।’

তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল থেকে বলছি, ওদেরগুলো (এগিয়ে থাকা আসন) আগে দেখাবে। আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। অনেক জায়গায় কাউন্টিংয়ের বন্ধ করে রেখে দিয়েছে। কল্যাণীতে এমন সাতটি মেশিন ধরা পড়েছে, যেখানে কোনো মিলই নেই।’

মমতা আরও বলেন, ‘কেন্দ্র জোর করে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তৃণমূলের ওপর অত্যাচার করছে। অফিস ভাঙছে। জোর করে দখল করছে। এসআইআরের নামে ভোট লুট করেছে।’ 

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মনখারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড সবে কাউন্ট হল। ১৮-১৯ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি, ওয়াচ। আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।’

গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। তার পরে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয় দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার ১৪২টি আসনে। ২৯৪টি আসনের ভোটগ্রহণ হয়ে গেলেও আজ ভোটগণনা হবে ২৯৩টি কেন্দ্রের। কারণ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে নির্বাচনে ‘অনিয়মের অভিযোগে’ গোটা ভোটই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২১ মে ফলতায় নতুন করে ভোটগ্রহণ হবে। ২৪ মে হবে সেই ভোটের গণনা।

সবশেষ ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছিল ২১৫টি আসন। বিজেপির ঝুলিতে ছিল ৭৭টি আসন এবং বাকি দু’টি আসন পেয়েছিল অন্যান্যরা।