যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে একপাতার সমঝোতা স্মারকের দিকে এগোচ্ছে দুই পক্ষ

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সাথে পরিচিত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে একপাতার সমঝোতা স্মারকের দিকে এগোচ্ছে দুই পক্ষ

রয়টার্স

উপসাগরীয় যুদ্ধ অবসানে একটি একপাতার সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

পাকিস্তানি ওই সূত্র নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা সঠিক। অ্যাক্সিওস দুজন মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার সাথে পরিচিত আরও দুটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস মনে করছে যুদ্ধ অবসানের এই একপাতার সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে তিন দিনের পুরোনো নৌ অভিযান স্থগিত করার পর পরিস্থিতি এই মোড় নিয়েছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের সাড়া পেতে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে তিনটি প্রধান বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে — ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও জমাট ইরানি তহবিল ছাড় করা এবং হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের চলাচলের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, একপাতার এই ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকটি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এবং কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার মধ্যে সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে।

বর্তমান খসড়া অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে এবং ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনার সূচনা হবে। এই আলোচনায় প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ৩০ দিনের এই সময়কালে ইরানের শিপিং বিধিনিষেধ ও মার্কিন নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হবে।

তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ভেঙে পড়লে মার্কিন বাহিনী পুনরায় অবরোধ আরোপ বা সামরিক অভিযান শুরু করতে পারবে।

এর আগে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে অবরুদ্ধ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেন। রোববার চালু হওয়া এই অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়, উল্টো ইরানের নতুন হামলার মুখে পড়ে।

সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, “আমরা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একমত হয়েছি যে অবরোধ সম্পূর্ণরূপে বহাল রেখে, চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরের সম্ভাবনা যাচাই করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে।”

অভিযান চলাকালে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে প্রণালিতে ও আশপাশে বেশ কয়েকটি জাহাজ আঘাতের শিকার হয়েছে। একটি দক্ষিণ কোরিয়ার কার্গো জাহাজ তার ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। বুধবার একটি ফরাসি শিপিং কোম্পানি জানায়, আগের দিন তাদের একটি কনটেইনার জাহাজ প্রণালিতে আঘাত পেয়েছে এবং আহত নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরান ঘোষণা করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রণালির ওপারের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। তেহরান আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বারবার হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে প্রণালির বাইরের একমাত্র প্রধান আমিরাতি তেলবন্দরও রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরান নিজস্ব জাহাজ ছাড়া সব শিপিংয়ের জন্য প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এপ্রিলে ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোতে আলাদা অবরোধ আরোপ করে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি চীন সফরকালে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে কিছু না বলে জানিয়েছেন, তেহরান “একটি ন্যায্য ও ব্যাপক চুক্তির” জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্ব নিয়ে তিনি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেছেন।