ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ: মিত্রদের সঙ্গে বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হবে

মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে — আমেরিকা কি সত্যিকারের বিপদে পাশে থাকবে?

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ: মিত্রদের সঙ্গে বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হবে

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছে, তখন ওয়াশিংটনের পুরনো মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে — আমেরিকা কি সত্যিকারের বিপদে পাশে থাকবে?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা কমানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি।

এই সিদ্ধান্ত এসেছে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ প্রকাশ্যে বলার পরপরই যে ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রকে “অপমানিত” করছে। এতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প পেন্টাগনকে জার্মানিতে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনাও বাতিল করতে বলেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগে ট্রাম্প ন্যাটো জোটের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ — অর্থাৎ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি — মানার বাধ্যবাধকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে তিনি “উইনস্টন চার্চিল নন” বলে কটাক্ষ করেছেন এবং যুক্তরাজ্যের পণ্যে বড় শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন।

জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে শুরু করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৌশলগত সুরক্ষার জন্য এখনও তারা আমেরিকার উপর নির্ভরশীল, তাই পুরোপুরি আলাদা পথে যাওয়া এখনই সম্ভব নয়।

এই সপ্তাহে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ফুজাইরা বন্দরে আগুন লাগে, স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রাম্প এটিকে “ছোট ঘটনা” বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল আছে।

উপসাগরীয় মিত্ররা আশঙ্কায় আছেন — ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তি করে বসতে পারেন যা ইরানকে তাদের জন্য আরও বিপজ্জনক করে তুলবে।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া আগে থেকেই ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক এবং মৈত্রী জোট নিয়ে তাঁর মনোভাবে বিরক্ত ছিল। ইরান যুদ্ধে জ্বালানি সংকট এবং ট্রাম্পের অনিশ্চিত আচরণ দেখে এখন প্রশ্ন উঠছে — চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে আমেরিকা কি সত্যিই সাহায্য করবে?

জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেশি ইওয়ায়া রয়টার্সকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস ও প্রত্যাশা ক্রমশ কমে আসছে — এটি পুরো অঞ্চলের ওপর দীর্ঘ ছায়া ফেলতে পারে।”

ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় রাশিয়া ও চীন কৌশলগত সুবিধা নিতে সচেষ্ট হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রাশিয়া উচ্চ তেল ও গ্যাস মূল্য থেকে লাভবান হচ্ছে। চীন বিশ্বের কাছে নিজেকে “বিশ্বস্ত অংশীদার” হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। আগামী সপ্তাহে ট্রাম্পের বেইজিং সফর নির্ধারিত রয়েছে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন?

ওবামা প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টা ব্রেট ব্রুয়েন বলেছেন, “ইরান প্রশ্নে ট্রাম্পের বেপরোয়া আচরণ আমেরিকার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।”

তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেছেন, ট্রাম্প “বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছেন” এবং তিনি কখনো মিত্রদের দ্বারা অন্যায় সুবিধা নিতে দেবেন না।

সূত্র: রয়টার্স