গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগায়ি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পারমাণবিক অপ্রসার চুক্তির (এনপিটি) আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের যে অধিকার ইরানের রয়েছে, তা কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় নয়।
সোমবার (১৮ মে) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাগায়ি বলেন, গত দুই বছর ধরে সমৃদ্ধকরণ প্রশ্নে বারবার আলোচনা উঠলেও ইরান সব সময় একই অবস্থানে অটল থেকেছে—এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।
মুখপাত্র জানান, ইরান একটি ‘১৪ দফা পরিকল্পনা’ উপস্থাপনের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্বেগের কথা জানায় এবং ইরানও তার অবস্থান তুলে ধরে। এরপর পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি সংশোধিত প্রস্তাব পাঠায় ওয়াশিংটন। সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দুই রাত আগে ইরানের অবস্থান পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছরের জন্য ইরানের সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব প্রসঙ্গে বাগায়ি বলেন, ইরানের বর্তমান মনোযোগ যুদ্ধ বন্ধ করার দিকে। পারমাণবিক অধিকারের প্রশ্নে তেহরান কোনো আপস করবে না এবং পারমাণবিক ইস্যুতে এখনো কোনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নিয়ে মুখপাত্র বলেন, ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেও এটা উপলব্ধি করেছে যে হুমকি ও চাপ দিয়ে ইরানকে জনগণের অধিকার আদায়ের পথ থেকে সরানো যাবে না।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশের জবাব ইরান দৃঢ়ভাবে দিতে সক্ষম। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ‘চমক’ রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
যুদ্ধের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বাগায়ি বলেন, ইরানের কূটনীতি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিপক্ষের পরস্পরবিরোধী আচরণে তেহরান প্রভাবিত হবে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যেকোনো ‘বেপরোয়া পদক্ষেপের’ বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে আত্মরক্ষা করবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি