সরকারবিরোধী প্রচারণা রোধে ‘সক্ষমতা’ বাড়াচ্ছে এনটিএমসি

‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি’ এর সঙ্গে চুক্তির আওতায় ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৩৭ টাকা খরচ হবে।

সরকারবিরোধী প্রচারণা রোধে ‘সক্ষমতা’ বাড়াচ্ছে এনটিএমসি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

সরকারবিরোধী প্রচারণা রোধে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যেসব ‘কন্টেন্ট’ বা আধেয় প্রকাশ করা হয়, তা ‘ব্লক’ ও ‘ফিল্টার’ করার ‘সক্ষমতা’ বাড়াতে যাচ্ছে আলোচিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)।

বুধবার (২০ মে) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনটিএমসির জন্য ‘এক্সপানশন অব কন্টেন্ট ব্লকিং অ্যান্ড ফিল্টারিং সিস্টেম (ফেইজ-১)’ এর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়ার তথ্য দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এর জন্য বিভিন্ন দেশের নানান ব্র্যান্ডের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি’ এর সঙ্গে চুক্তির আওতায় ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৩৭ টাকা খরচ হবে বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

তবে এ চুক্তির আওতায় এনটিএমসি কী পণ্য বা যন্ত্র কিনবে তার বিস্তারিত সভার আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে তুলে ধরা হয়নি।

যদিও ‘কন্টেন্ট ব্লকিং অ্যান্ড ফিল্টারিং সিস্টেম’ এর আওতায় রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী নানামুখি প্রচারণা ও ‘কন্টেন্ট’ রোধের কাজ সংস্থাটি তার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই করে আসছে।

বিগত সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের নজরদারি কাঠামোর মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে আড়িপাতার কার্যক্রম পরিচালনা করায় নানামুখি আলোচনা ও যে সমালোচনা রয়েছে, তার মধ্যেই এনটিএমসির সরকারবিরোধী প্রচারণা রোধের ব্যবস্থা সম্প্রসারণের তথ্য এল।

২০১৯ সালে এনটিএমসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্থাটি দ্রুতই সরকারবিরোধী প্রচারণা এবং অন্যান্য ‘কন্টেন্ট’, যা ইন্টারনেটে বেআইনি কাজে ব্যবহৃত হয় তা ‘ব্লক’ করতে সক্ষম হবে। ‘কন্টেন্ট ব্লক অ্যান্ড ফিল্টারিং সিস্টেম’ এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়াসহ নানা বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে সমালোচনার মুখে এনটিএমসি বিলুপ্ত করার পদক্ষেপ নেয় আওয়ামী লীগের পতনের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর এনটিএমসি বিলুপ্ত করে এর বদলে ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস)’ নামে নতুন একটি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব রেখে টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দেয়।

প্রস্তাবিত এ সংস্থাটি আধা বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে আড়িপাতার কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে তুলে ধরা হয় এতে।

ওইদিন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খসড়া অধ্যাদেশের সংশোধনীগুলোর বিষয়ে বলা হয়, আইনানুগ ‘ইন্টারসেপশনের’ (আড়িপাতা) সংজ্ঞা এবং পরিধি স্পষ্টভাবে এবং সুবিস্তারে আইনে নির্ধারিত করা হয়েছে।

কেবল বিচারিক ও জরুরি আইনানুগ আড়িপাতার প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিআইএস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি বাধ্যতামূলকভাবে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে।

তবে এর দুই মাসেরও কম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিলে তা আর হালে পানি পায়নি। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের নামে নানা বদলের যেসব অধ্যাদেশ পাস করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার, ২০ বছর পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার তার সবগুলো সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকে।

এনটিএমসি বিলুপ্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশ তখনকার সরকার জারি করতে না পারায় এ নিয়ে আলোচনাও স্থিমিত হয়ে গেছে।

এর মধ্যে সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র কেনার অনুমোদন পাওয়ার তথ্য এল।

এদিন ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল (দুই লিটার বোতলে) এবং এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন (দুই লিটার বোতলে) কেনার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়াও ২০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্তে সায় মেলে সভায়।