গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
কালীগঞ্জে বাল্যবিবাহের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় এক কিশোরীকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মৃত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল ১০টার দিকে জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদি এলাকায় স্বামীর বাড়িতে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়।
নিহত কিশোরীর নাম শামিমা আক্তার, বয়স ১৫।
পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা, না অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, কলাপাটুয়া এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে শামিমার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ছৈলাদি গ্রামের সোহানের (১৬) কিশোর বয়স থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আনুমানিক পাঁচ মাস আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।
যদিও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর। কিন্তু সেই আইন অমান্য করেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয় বলে জানা গেছে। বুধবার সকালে স্থানীয়রা শামিমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীর বাড়িতে তার ঘরে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম জানান, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উভয় পরিবারের সদস্যরা থানায় রয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন থাকলেও প্রত্যন্ত এলাকায় এর প্রয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনও বিশ্বের সর্বোচ্চ বাল্যবিবাহের হার রয়েছে এমন দেশগুলোর একটি। আইনি বাধা থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক ও সামাজিক চাপে বাল্যবিবাহ অব্যাহত থাকছে। আর তার পরিণতিতে অল্প বয়সী মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শামিমার মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠছে, বিয়ের সময় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কি এই বাল্যবিবাহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন? থাকলে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?