গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের গোরুক শহরে ও কেশম দ্বীপে দেশটির রেডার ও ড্রোন ঘাঁটিতে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এর জবাবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা চলার মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত পর্যায়ে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে।
সামাজিম মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, রবিবার ইরানের পারস্য উপসাগর উপকূলে আঘাতগুলো হানা হয়।
সেন্টকম বলেছে, “এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আগ্রাসি পদক্ষেপের জবাব দিয়েছে, যার মধ্যে আছে একটি মার্কিন এমকিউ-ওয়ান ড্রোন ভূপাতিত করা যেটি আন্তর্জাতিক জলসীমার উপর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল।
“যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমানগুলো দ্রুত জবাব দিয়ে ইরানের এয়ার ডিফেন্স, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি একমুখি অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস করে দিয়েছে। এগুলো এই অঞ্চলের জলপথ দিয়ে চলাচলরত জাহাজগুলোর জন্য পরিষ্কার হুমকি তৈরি করেছিল।”
সেন্টকম জানিয়েছে, তারা চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষা করা অব্যাহত রাখবে।
আইআরজিসি সোমবার জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালানোর জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার করা একটি বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যস্থল করেছে। তবে কোন বিমান ঘাঁটি তা জানায়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আছে। সোমবার সকালে কুয়েতের এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে ব্যস্ত ছিল, পুরো দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
এপ্রিলের প্রথম দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে আর যুদ্ধ অবসানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। কিন্তু আরও টেকসই একটি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় মধ্যেই তারা মাঝে মাঝে হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ছে। গত বৃহস্পতিবারও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার চালানোর পর মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান আর তখনও উভয়পক্ষ এবারের মতো প্রায় একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা ঘটায়। পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ যুদ্ধে প্রধানত ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে রাখায় জ্বালানির দাম বেড়ে গিয়ে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে।