রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পরস্পরের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান অবিলম্বে শান্তিচুক্তিতে রাজি না হলে হামলা আরও তীব্র করা হবে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার এই ধারা শুরু হয়। এপ্রিলে সম্পাদিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির জন্য এটিকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মধ্যরাতের পর প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযান সম্পন্ন হয়েছে বলে সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, এই হামলা ইরানকে একটি চুক্তিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।
“আমরা আজ রাতে তাদের শক্তভাবে আঘাত করব। আশা করি ইরান সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। বোমা দিয়ে আলোচনা করতে হলে, সেটাও করব।”
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন বিমানঘাঁটিসহ মোট ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি জর্দানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে দ্বিতীয় রাতের মতো ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছে। কুয়েতও একই দাবি করেছে।
ইরানে সিরিক, বন্দর আব্বাস, মিনাব, কারাজ এবং উত্তরের ভারামিনসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দুটি মার্কিন জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছে, প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই অভিযোগ করেছেন, মার্কিন হামলায় ১০টি গ্রামের পানি সরবরাহকারী জলাধার ধ্বংস করা হয়েছে।
“এটি আনুষঙ্গিক ক্ষতি নয় — এটি পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকারের ন্যক্কারজনক লঙ্ঘন।”
পেন্টাগন এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
এই সংঘাতে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হয়েছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় তিন ডলার বেড়েছে।
যুদ্ধের অজনপ্রিয়তা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। উচ্চ জ্বালানি মূল্য নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভে তার সমর্থনের হার নিম্নমুখী। অনেক রিপাবলিকানও আশঙ্কা করছেন, এই যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ হতে পারে।
সমান্তরালভাবে লেবাননেও ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। বুধবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে লেবানিজ নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলছেন চুক্তি এখন কাছাকাছি, কিন্তু কোনো অগ্রগতির চিহ্ন নেই। ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে — লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জমাট সম্পদ মুক্তি এবং হরমুজ প্রণালিতে তার নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি — প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হবে।