ট্রাম্পের হুমকি: ‘আজ রাতেই ইরানে শক্তিশালী হামলা’, খার্গ দ্বীপ দখলের ঘোষণা

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো 'অবিবেচক' পদক্ষেপ নিলে ইরান আরও শক্তিশালী ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেবে।

ট্রাম্পের হুমকি: ‘আজ রাতেই ইরানে শক্তিশালী হামলা’, খার্গ দ্বীপ দখলের ঘোষণা

রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘আজ রাতেই’ ইরানে ‘অত্যন্ত তীব্র’ হামলা চালাবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করে নেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষাসহ প্রায় সব সামরিক সক্ষমতা ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার মতোই ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই সংঘাত। এতে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যদিও বৃহস্পতিবার দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।

ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২ শতাংশ। এই তেলের বড় অংশই যায় চীনে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, খার্গ দ্বীপ দখল করা সামরিকভাবে সম্ভব হলেও যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটাবে না; বরং সেখানে মোতায়েন মার্কিন স্থলসেনারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে পারেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘অবিবেচক’ পদক্ষেপ নিলে ইরান আরও শক্তিশালী ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেবে।

বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান হামলা বিনিময় করেছে। ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর মিলেছে, আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা থামেনি। তিনজন ইরানি সূত্র ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা জোরদার হয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষত বিদেশে জমাট ইরানি তহবিল ছাড়ের পদ্ধতি নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।

ইরান চায় তার জমাট অর্থ সরাসরি তেহরানে ছাড় করা হোক। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে মানবিক পণ্যের বিনিময়ে ধাপে ধাপে সেই অর্থ দেওয়া হোক। তেহরানের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প স্বীকার করেন, আলোচনা এখনো চলছে। তবে তাঁর পছন্দ খার্গ দ্বীপ দখল। তিনি বলেন, ‘তবে আমি জানি না আমেরিকার সেই মনোবল আছে কি না।’

এই সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ভারতীয় নাগরিকদের প্রাণহানিতে। ওমান উপকূলে একটি ট্যাংকারে মার্কিন সামরিক হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর ভারত তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, এ সপ্তাহে ভারতীয় ক্রুসহ তিনটি জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনী হামলা চালিয়েছে।

ঘরোয়া রাজনীতিতেও চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ভোটারদের ক্ষোভে তাঁর জনপ্রিয়তা কমছে। দলীয় রিপাবলিকান নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই যুদ্ধের অজনপ্রিয়তা আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে।