গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
আজ ১ আষাঢ়, বর্ষা ঋতুর আনুষ্ঠানিক প্রথম দিন। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আষাঢ়-শ্রাবণ মিলেই এই ঋতু। চলতি বছর গ্রীষ্মকালেই বেশ কয়েকদিন বৃষ্টি দেখা গেছে। তবে বর্ষার প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন পর্যন্ত বৃষ্টিহীনই কাটছে। যদিও দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
সোমবার (১৫ জুন) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় দেশের বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণেরও আভাস দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আষাঢ়ের শুরুটা তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে—এমনটাই বলছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষকেরা। জৈষ্ঠ্যের শুরুর দিক থেকেই শুরু হওয়া থেমে থেমে বৃষ্টির ধারাবাহিকতা বর্ষার আবহকে আগেই তৈরি করেছে।
ঢাকার গাছপালায় নতুন কদম ফুলের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। কোথাও কোথাও কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ ফুরিয়ে এসে মিশে যাচ্ছে বর্ষার হলদেটে কদমের আভায়। বৃষ্টি না থাকলেও মেঘলা আকাশ আর স্যাঁতসেঁতে বাতাস শহুরে জীবনে এক ধরনের নরম বিষণ্নতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমন সময়ই যেন নাগরিক মনে ফিরে আসে রবীন্দ্রনাথ— ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে।’
বর্ষা ঋতু বাংলাদেশের জন্য কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, এক ধরনের সাংস্কৃতিক আবেগও। কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় বর্ষা এসেছে বারবার প্রেম, বিরহ আর প্রকৃতির গভীর সংযোগের প্রতীক হয়ে। তাই বর্ষার প্রথম দিন মানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান, কবিতা আর ছবির ছড়াছড়ি। কেউ লিখছেন— ‘ছায়া ঘনাইছে বনে বনে’, কেউবা গুনগুন করছেন ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছি দান।’
এদিকে দেশের নৃতাত্ত্বিক বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যেও বর্ষা বরণের রয়েছে নিজস্ব রীতি ও আচার। রাখাইন সম্প্রদায়ের বর্ষা উদযাপনও এ ঋতুকে দেয় ভিন্ন মাত্রা।
তবে বর্ষার আনন্দের পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও আছে পার্বত্য অঞ্চলকে ঘিরে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ওইসব এলাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে সতর্কতা ও উদ্বেগ। এর প্রভাব সারাদেশের আবহেও এক ধরনের নীরবতা তৈরি করেছে।
তবু সব ছাপিয়ে বর্ষা যেন বাঙালির জীবনে ফিরে আসারই ঋতু। রাস্তায় সিগন্যালে সিগন্যালে কদম হাতে শিশুদের ছোটাছুটি, ১০ টাকার সেই ফুল—সব মিলিয়ে শহুরে জীবনে বর্ষা তার নিজের মতো করেই আবারও উপস্থিত।