গাজীপুর কণ্ঠ, খেলাধুলা ডেস্ক
জমাট রক্ষণের জন্য পরিচিতি পাওয়া তিউনিসিয়া গোল হজম করে বসল সপ্তম মিনিটে। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারল না তারা। তরুণ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি এবং দুই তারকা স্ট্রাইকার আলেকসান্দার ইসাক ও ভিক্তর ইয়োকরেসের নৈপুণ্যে বড় জয়ে আসর শুরু করল সুইডেন।
মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে ৫-১ গোলে জিতেছে সুইডেন। দলের বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন আয়ারি। জালের দেখা পেয়েছেন ইসাক, ইয়োকেরেস ও মাতিয়াস স্ফনবার্জ।
সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় সুইডেন। মাঝমাঠ থেকে পাঠানো বল ধরতে ছুটছিলেন ইসাক, তাকে ঠেকাতে লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিউনিসিয়া গোলরক্ষক মুহিব চামাখ, বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। বল পেয়ে যান ইয়োকেরেস, তার শট গোললাইন থেকে ঠেকান ডিফেন্ডার মুন্তাসার তালবি। ফিরতি বলে ডি বক্সের বাইরে থেকে গতিময় ভলিতে জাল খুঁজে নেন আয়ারি।
গোল উদযাপন করেননি ব্রাইটনের অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের এই মিডফিল্ডার। গোল করেছেন যে বাবার জন্মভূমি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপে সুইডেনের সর্বকনিষ্ট গোলদাতা হয়ে গেলেন আয়ারি (২২ বছর ২৫১ দিন)।
৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসাক। প্রতি আক্রমণে কাছ থেকে বল পেয়ে বাম দিক থেকে কোনাকুনি দৌড়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে আড়াআড়ি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে খুঁজে নেন। ঝাঁপিয়ে হাত ছোঁয়াতে পারলেও জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি চামাখ। আরও ভালো করতে পারতেন তিনি।
৪৩তম মিনিটে চমৎকার গোলে ব্যবধান কমায় তিউনিসিয়া। হান্নিবাল মেজব্রির ক্রসে দারুণ ফ্লিকে জাল খুঁজে নেন ওমার রেকিক। প্রথমার্ধে এটাই ছিল লক্ষ্যে তিউনিসিয়ার একমাত্র শট।
৬০তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-১ করেন ইয়োকেরেস। এতে দায় অবশ্য তিউনিসিয়া অধিনায়ক ইলিয়েস স্কিহিরির। গোলরক্ষকের কাছ থেকে নিজেদের ডি বক্সের কাছে বল পেয়ে অহেতুক দেরি করেন তিনি। পরে ইসাকের চ্যালেঞ্জের মুখে বল হারিয়ে ফেলেন, মরিয়া চেষ্টাতেও আর উদ্ধার করতে পারেননি। নিজে শট না নিয়ে ইসাক বল বাড়ান ইয়োকেরেসকে। বাকিটা অনায়াসে সারেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড।
৮৪তম মিনিটে বদলি নামার ১৮ সেকেন্ডের মধ্যে জালের দেখা পেয়ে যান স্ফনবার্জ। ফ্রি কিকের শুরুতে তিনি ছিলেন অফসাইড। শুরুতে সেই ইশারাই দিয়েছিলেন লাইন্সম্যান। কিন্তু বল সরাসরি তার কাছে আসেনি, মাঝপথে পা ছুঁয়ে যায় ইসাকের। তাতেই টিকে যায় স্ফনবার্জের গোল।
যিনি শুরু করেছিলেন, সেই আয়ারিই শেষ করেন। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে আরেকটি গতিময় শটে পোস্ট ঘেঁষে ঠিকানা খুঁজে নেন। বড় জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে অনেক লড়াই করে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়া সুইডেন।