নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান শুভ্র গ্রেপ্তার

নাভানা গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা ও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়ম, অর্থ পাচার এবং কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান শুভ্র গ্রেপ্তার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে বুধবার (২৪ জুন) সকালে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শ্রম আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে মঙ্গলবার রাত থেকেই তাঁর বাসার বাইরে অপেক্ষায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একজন সাবেক কর্মীর দায়ের করা মজুরি মামলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ নাভানা গ্রুপ ও আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের মোট আট জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

মামলার বাদী কফিল উদ্দিন শ্রম আদালতে অভিযোগ করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি তাঁর প্রায় ২৩ লাখ টাকা পাওনা পরিশোধ করেনি। গত বছরের ৮ মে দেওয়া রায়ে আদালত ওই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না হওয়ায় চলতি বছরের ৩ মে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বনানী থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বনানীর ১৫ নম্বর সড়কের ৫৪ নম্বর বাড়িতে অভিযানে গেলে প্রথমে ভবনের গেটে তালা পায়। নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। এমনকি শুভ্রর গাড়িচালক ও দেহরক্ষী পুলিশের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত রাতভর বাইরে অপেক্ষার পর বুধবার সকাল ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারের পর সকালেই তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এই মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন—নাভানা গ্রুপের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম কামাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদা ইসলাম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন, ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্র এবং চার কর্মকর্তা: শাহাদাত হোসেন মিয়া, ফারজানা ইয়াসমিন, ইমরান বিন ফেরদৌস ও মোহাম্মদ মনিরুল আলম।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, পরোয়ানা জারির পরও দীর্ঘদিন ধরে দেশে অবস্থানরত বেশিরভাগ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পাওনা পরিশোধেও মালিকপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, নাভানা গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা ও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়ম, অর্থ পাচার এবং কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।