গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য ‘যৌক্তিক’ সময় দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার মাঝখানেই তাঁকে সার্কিট হাউজে ডেকে পাঠানো হয় এবং সেখানেই সম্পন্ন হয় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া।
গত রবিবার দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের পত্র সিলেটে পৌঁছায়। তিনি তখন অফিসেই ছিলেন। বিকালের মধ্যেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হঠাৎ এই প্রত্যাহারে তিনি হতাশ হন এবং সন্ধ্যায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে কিছুটা আবেগাপ্লুত ছিলেন।
সোমবার বেলা ১টায় অফিস ছেড়ে তিনি শাহজালাল (র.) মাজারে যান এবং দানবাক্সে সিলগালা খুলে টাকা গণনা শুরু করেন। বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং গোটা দেশের দৃষ্টি মাজারের দিকে ঘুরে যায়।
টাকা গণনা চলার সময় ঢাকা ও সিলেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার ফোন করছিলেন, কিন্তু সেগুলো রিসিভ হচ্ছিল না।
এরপর বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমান সার্কিট হাউজে এসে লোক মারফত ডিসি সারওয়ার আলমকে ডেকে পাঠান। গণনা শেষ না করেই তিনি সার্কিট হাউজের পথ ধরেন।
সেখানে পৌঁছানোর আগেই দায়িত্ব হস্তান্তরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যায়। ডিসি নিজের পছন্দের এক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে দায়িত্ব দিতে চাইলেও তা মানা হয়নি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ আসে এবং রাত ১০টার মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাজারকেন্দ্রিক পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। মাজার প্রশ্নে পক্ষে-বিপক্ষে বিভাজনও স্পষ্ট। ডিসির অফিসের সামনে একদিকে তাঁর সমর্থনে মিছিল, অন্যদিকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ — দুটোই একই সময়ে চলছিল। ঢাকা থেকে কালক্ষেপণ না করার নির্দেশ এসেছিল বলে জানা গেছে।
শাহজালাল (র.) মাজারের দান-সংক্রান্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব এতদিন অস্বচ্ছ ছিল। গত বৃহস্পতিবার দানবাক্সে সিলগালা দেওয়া হয়, আর মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সোমবার বাক্স খুলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
সন্ধ্যায় ওই টাকা ডিসি অফিসে আনা হয় এবং পাশের সোনালী ব্যাংক শাখায় নতুন খোলা অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। জেলা প্রশাসক নিজের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান দেন। ফলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ডলার, পাউন্ড, রিয়াল ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।
রাতে সিলেট না ছেড়ে ডিসি সারওয়ার আলম পরদিন মঙ্গলবার সকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন এবং কিছু নির্দেশনা দেন। দুপুরে বিমানে সিলেট ত্যাগের আগে নিজের ফেসবুকে লেখেন —”বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।”
তথ্যসূত্র: মানবজমিন