গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এক রাতেই ইউক্রেনের ছোঁড়া ৬৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ হিসেবে ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি রাশিয়ার ওপর চালানো ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ও নজিরবিহীন ড্রোন হামলা।
শুক্রবার (২৬ জুন) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতভর রাজধানী মস্কো, রুশ নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, কৃষ্ণসাগর এবং আজভ সাগরসহ ১২টিরও বেশি অঞ্চলের আকাশে এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, শুধু রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ৪৭টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর তিনটি প্রধান বিমানবন্দর—দমোদেদোভো, ভনুকোভো ও শেরেমেতিয়েভোর স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
টেলিগ্রামে এক বার্তায় তিনি আরও বলেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ যেখানে পড়েছে সেখানে জরুরি সেবা কর্মীরা কাজ করছেন, তবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে আঞ্চলিক গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ বলেছেন, মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার (১১২ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত তুলা অঞ্চলে একটি ‘ব্যাপক’ হামলা চালানো হয়েছে, এতে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন নারী আহত হয়েছেন।
মিলিয়ায়েভ আরও বলেছেন, মস্কো থেকে ২০০ কিলোমিটার (১২৫ মাইল) দক্ষিণে নোভোমোস্কোভস্কের একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম অ্যাস্ট্রা এই স্থাপনাটিকে আজোট প্ল্যান্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেটিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিস্ফোরক উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যা রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে দেশটির তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যাতে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার মূল অর্থনৈতিক বা রাজস্ব উৎসকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়। এর ফলে ইতোমধ্যেই রাশিয়ায় জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং সেনাবাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা