‘ঋণখেলাপি’ আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না: আপিল বিভাগ

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার প্রার্থিতা বাতিল করায় ওই আসনের নির্বাচনের ফলাফল আর প্রকাশ করা যাবে না।

‘ঋণখেলাপি’ আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না: আপিল বিভাগ

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে জিতলেও ঋণ খেলাপি হওয়া শপথ নিতে পারছেন না চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার প্রার্থিতা বাতিল করায় ওই আসনের নির্বাচনের ফলাফল আর প্রকাশ করা যাবে না।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই রায় ঘোষণা করে।

আসলাম চৌধুরীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

ওই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

কিন্তু তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং যমুনা ব্যাংক।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তখন হাই কোর্টে আলাদা রিট আবেদন করে অভিযোগকারী দুই পক্ষ। গত ২৭ জানুয়ারি হাই কোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটিও খারিজ করে দেয়। ফলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন জামায়তের প্রার্থী আনোয়ার। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার আপিলের আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

আদেশে বলা হয়, আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হলেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী অংশ নিতে পারবেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

অনিশ্চয়তা নিয়ে ভোট করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিককে ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ওই আসনের ফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে। ফলে আসলাম চৌধুরীর শপথ নেওয়াও আটকে থাকে।

সে কারণে ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসলাম। অন্যদিকে আনোয়ার সিদ্দিক গত ৩১ মার্চ আপিল আবেদন করেন।

এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত অ্যামিকাস কিউরি বা আদালত বন্ধু হিসেবে আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীর মতামত শোনে।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ মঙ্গলবার যে রায় দিল, তাতে আসলাম চৌধুরীর সংসদে ল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে অংশ নেন।

সূত্র: বিডিনিউজ