গাজীপুর কণ্ঠ, প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রতিদ্বন্দ্বী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল চ্যাটজিপিটি’কে পেছনে ফেলে দ্রুততম সময়ে ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক স্পর্শ করেছে গুগলের এআই জেমিনাই।
অ্যালফাবেট ও গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দার পিচাই বলেছেন, জেমিনাই এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির ‘সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল প্রযুক্তি পণ্য’।
এ লক্ষ্যে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে গুগলের ১৪তম পণ্য হিসাবে জেমিনাই শতকোটি ব্যবহারকারীর শক্তিশালী তালিকায় জায়গা করে নিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট। এ তালিকায় আছে গুগল ক্রোম, জিমেইল, গুগল ম্যাপস ও ইউটিউবের মতো পণ্য বা সেবা।
সম্প্রতি স্যাম অল্টম্যানের ওপেনএআই ঘোষণা করেছিল, বিশ্বজুড়ে তাদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে, যা তখন পর্যন্ত ছিল অ্যাপ ইতিহাসের দ্রুততম শতকোটির মাইলফলক।
চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার চার মাস পর প্রাথমিকভাবে ‘বার্ড’ নাম নিয়ে গুগলের এআই সফর শুরু হলেও ২০২৪ সালে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন অ্যাপ হিসেবে নতুন রূপ পায় জেমিনাই।
ফলে আত্মপ্রকাশের সময় ও ক্যালেন্ডারের হিসাব বিচারে চ্যাটজিপিটিকে টপকে এখন জেমিনাই’ই ইতিহাসের দ্রুততম সময়ে ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর চূড়ায় পৌঁছানো এআই অ্যাপের খেতাব নিজের করে নিল।
অ্যাপটির এ প্রবৃদ্ধি ও ব্যবহারিক জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে গুগল বলেছে, ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ জেমিনাইয়ের ‘ভয়েস মোড’ ফিচার ব্যবহার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
পাশাপাশি যে কোনো বাস্তব সমস্যার ‘রিয়াল-টাইম প্রবলেম সলভিংয়ের’ জন্য ফোনের লাইভ ক্যামেরা ফিড ও স্ক্রিন শেয়ারিংয়ের মতো আধুনিক বিভিন্ন ফিচারের ব্যবহারও হু হু করে বাড়ছে।
গুগলের তথ্য অনুসারে, জেমিনাই ব্যবহার করে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন ১৫ কোটিরও বেশি ছবি বা ইমেজ তৈরি করা হচ্ছে। কেবল আলাদা অ্যাপ হিসেবেই নয়, বরং ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ করতে জেমিনাইকে অন্যান্য বিভিন্ন সেবা ও অ্যাপে সমন্বিত এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ হচ্ছে।
এআইয়ের এ তীব্র লড়াইয়ে বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে গুগলকে সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিনের ওপর গুগলের যে একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে তাকে ব্যবহার করেই এআই বাজারে অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।
সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘ক্লাউডফ্লেয়ার’-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, গুগলের এআই মডেল জেমিনাই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত এআই ক্রলারগুলো তাদের মূল সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলারের মতোই ইন্টারনেটের তথ্য সংগ্রহের সুবিধা পাচ্ছে।
এ বিশেষ কাঠামোগত সুবিধার ফলে গুগল অন্য যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বড় পরিসরে ওয়েবের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে। ওপেনএআইয়ের তুলনায় ৩০০ শতাংশেরও বেশি এবং অ্যানথ্রপিক ও মেটার তুলনায় ৪০০ শতাংশেরও বেশি ওয়েব ডেটা ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে গুগল।
প্রযুক্তি খাতের এই অসম প্রতিযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স বলেছেন, “আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, যার কাছে সবচেয়ে বেশি তথ্যের অ্যাক্সেস থাকবে সেই বাজার জয় করবে, তবে গুগল সবসময় এমন এক বাড়তি সুবিধা পাবে, যা পেরোনো অন্য কারও পক্ষে কখনই সম্ভব হবে না।
“গুগল হওয়ার পেছনে বড় এক কাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। আপনি যদি প্রশ্ন তোলেন , ‘কেন জেমিনাই রাতারাতি ওপেনএআই ও অন্যান্যদের টপকে গেল?’, তবে তার কারণ উন্নত চিপ নয়, গবেষক বা তাদের অতিরিক্ত বুদ্ধিমত্তাও নয়।
“এর একমাত্র কারণ গুগলের কাছে অনেক বেশি ডেটার এক্সেস রয়েছে, যা তাদের এক অসংগত সুবিধা দিচ্ছে। আর গুগল কেবল সার্চ ইঞ্জিনে নিজেদের একক আধিপত্য সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই এই বড় ডেটার নাগাল পাচ্ছে।”