কাশিমপুরে নারী বন্দি পলায়ন: তদন্ত কমিটি গঠন, সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

নারী বন্দি কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।

কাশিমপুরে নারী বন্দি পলায়ন: তদন্ত কমিটি গঠন, সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি কমিটি।

দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা, এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

এআইজি জান্নাতুল ফরহাদ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, শুক্রবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের ভেতরে কয়েকজন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এক পর্যায়ে এক নারী বন্দি কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।

পালিয়ে যাওয়া রিম্পা (২১) মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার মো. হাসানের মেয়ে। ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। গত ৯ জুলাই আদালত থেকে তাকে এই কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

ঘটনার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ পুরো কারাগারে তল্লাশি চালালেও রিম্পার কোনো সন্ধান পায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।

এআইজি জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, এত নিরাপত্তার মধ্যেও একজন বন্দি কীভাবে পালালেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর কোনাবাড়ি থানায় মামলা হয়েছে এবং পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।