রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ শিগগিরই চূড়ান্ত হবে: সিইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ শিগগিরই চূড়ান্ত হবে: সিইসি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন-তারিখ ও সময়সূচি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমন্বয় শেষে শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের দিন-তারিখ ও সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমন্বয় শেষে শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সংসদ সচিব ও সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের তারিখসহ নির্বাচনের পূর্ণ সময়সূচি ঘোষণা করবে।

সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশনের সভায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের পর গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল প্রকাশ করা হবে।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকেই মনোনয়ন গ্রহণ, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহারসহ নির্বাচন-সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে। সংসদ অধিবেশনে থাকুক বা না থাকুক, আইনে উভয় পরিস্থিতির জন্য পৃথক বিধান রয়েছে। ফলে নির্বাচন আয়োজনে কোনো ধরনের জটিলতা হবে না।

সিইসি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা সংসদ সচিবালয় সরবরাহ করবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছে। ভোটার তালিকা পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ কমিশনের সামনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন রয়েছে। সে কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় কমিশন।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে আজকের বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। আজ কেবল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ওই বিষয়ে সংসদ থেকে আমাদের কাছে রেফার করা হলে তখন আইন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। প্রথমে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে গাজী নজরুল নিজেই ফেসবুক পোস্টে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠিও পাঠিয়েছে দলটি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও থাকতে হবে।