জামিনে মুক্ত তনু হত্যার আসামি, ‘জানে না রাষ্ট্রপক্ষ’

জামিন স্থগিতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামিনে মুক্ত তনু হত্যার আসামি, ‘জানে না রাষ্ট্রপক্ষ’

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

রাষ্ট্রপক্ষের অজান্তে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে গেছেন কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান।

গত রবিবার হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় বিচারপতি জাফর আহমেদ এবং বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

তবে জামিনের শুনানির খবর রাষ্ট্রপক্ষের সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের কেউ জানতে পারেননি বলে দাবি করা হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারাগার থেকে হাফিজুরের মুক্তির পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এই মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাব্বির হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম ও মীর মনিরুজ্জামান। আসামি হাফিজুরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন ভূঁইয়া।

জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না।

তার ভাষ্য, ওই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আটজন আইন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। মামলার ফাইল কার কাছে ছিল বা মামলাটি কার দায়িত্বে ছিল, তা তার জানা নেই।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাব্বির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আজই জামিনের বিষয়টি জানতে পেরেছি। অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়নি।’ সাক্ষাৎ হলে জামিন স্থগিতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তনু হত্যা মামলার মতো বহুল আলোচিত একটি মামলায় আসামির জামিনের বিষয়টি আদালতসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কাছেও সময়মতো পৌঁছায়নি। ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্নার মতে, এর সঙ্গে আদালতকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কিত।

তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, গত ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের কোনো কোনো বিচারকক্ষে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে স্পর্শকাতর মামলার আসামিরা জামিন পেলেও বিষয়টি সাংবাদিকদের অজানা থেকে যাচ্ছে, গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় আসামি বের হয়ে যাওয়ার পরে গণমাধ্যম জানতে পারে।

তার মতে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনেক সময় রাষ্ট্রপক্ষকে কোনো মামলায় আসামির জামিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু সংবাদ প্রকাশ না হলে রাষ্ট্রপক্ষও যথাসময়ে বিষয়টি জানতে পারছে না।

তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হাফিজুর সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়।

তার হত্যার ঘটনায় করা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। হাফিজুর রহমানের গ্রেপ্তারের পর মামলাটি আবারও আলোচনায় আসে।

সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ