সরকারি কর্মীদের বেতন শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব, কার্যকর হবে দুই কিস্তিতে

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতা খাতে ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, আর পেনশন ও গ্র্যাচুইটি যোগ করলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকায়।

সরকারি কর্মীদের বেতন শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব, কার্যকর হবে দুই কিস্তিতে

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির একটি সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে, যা প্রথম গ্রেড থেকে শুরু করে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সব কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য হবে। এই বৃদ্ধি একবারে নয়, বরং দুই বছরে ভাগ করে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে—প্রথম বছরে মূল বেতনের অংশ, আর দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা যুক্ত হতে পারে। প্রস্তাবটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটির প্রতিটি সদস্য ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন।

ক্ষমতার ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে, যার শিরোনাম ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’। এই প্রকাশনার একটি অংশে—‘নবম পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ নামে—নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

সেখানে জানানো হয়, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতা খাতে ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, আর পেনশন ও গ্র্যাচুইটি যোগ করলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকায়।

সবশেষ অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রায় ১২ বছর পর, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে, যাতে সদস্য ছিলেন মোট ২৩ জন। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তখনকার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।

কমিশনের সুপারিশে গ্রেড সংখ্যা অপরিবর্তিত—অর্থাৎ বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার কথা বলা হয়েছিল, তবে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে কম বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকায় এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার কথা ছিল।

কমিশনের সুপারিশ মাঠপর্যায়ে কার্যকর করার পথ বাতলাতে গত ২১ এপ্রিল একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা।

এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের পথে হাঁটবে সরকার। তাঁর ভাষ্য ছিল, প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একই বেতনকাঠামোয় আটকে আছেন সরকারি কর্মীরা, অথচ এই দীর্ঘ সময়ে ক্রমাগত মূল্যস্ফীতির চাপে তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের হিসাব-বিশ্লেষণেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো