গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় ছুরিকাঘাতে এক চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তার বৃদ্ধ মাও মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর শিমুলতলী এলাকার মির্জানগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে আতাউর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের নাম আতাউর রহমান আতা (৫০)। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তার বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুনও মারা গেছেন। একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত আতাউর রহমান উপজেলার ঘাগটিয়া চালার বাটনা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
কাপাসিয়া আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মির্জানগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে শিমুলতলী সড়কের একটি ফাঁকা জায়গা থেকে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতের স্বজন মাসুদ রানা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আতাউর রহমান অত্যন্ত ধার্মিক ও সৎ মানুষ ছিলেন। তার ধারণা, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ভাড়ার কথা বলে আতাউরকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি নিয়ে যায়।
মাসুদ রানা আরও বলেন, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তার বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুন মারা গেছেন। বাড়িতে পরিবারের দুই সদস্যের মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে এবং তাঁদের জন্য দুটি কবর খনন করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাসেলসহ চারজনকে পুলিশ আটক করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চারজনকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি পরে জানানো হবে। ছেলের মৃত্যুর খবরে মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।