গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
বাংলাদেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তৃণমূল থেকে উঠে এসে বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি হয়ে ওঠা এ ‘সজ্জন’ রাজনীতিক এবার আসীন হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে।
শুক্রবার (২১ অগাস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেন তিনি; শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ কয়েকশ অতিথি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
এ শপথের মধ্য দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এর প্রায় চার সপ্তাহ পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান পেল বঙ্গভবন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা মির্জা ফখরুল।
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পরে হওয়া এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ভোট পান ২৫৫টি। তার প্রতিদ্বদ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের বাক্সে ভোট পড়ে ৮৮ ভোট।
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ দরবার হলে প্রবেশ করেন তিনি। দরবার হলের মঞ্চে নিজ আসনের সামনে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যান্ডদলের সদস্যরা বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় সংগীত বাজান।
এরপর আসন গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠান শুরুর অনুমতি প্রার্থনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন উপস্থাপন করেন এবং শপথবাক্য পাঠ ও গ্রহণের অনুরোধ জানান।
তখন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি ও বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নিজেদের আসন পরিবর্তন করে বসেন।
রাষ্ট্রপতির শপথ শেষ শপথ নেন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী। তাদের শপথ শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সেই সঙ্গে অতিথিদের দরবার হলের উত্তর দিকে ক্রেডেনশিয়াল মাঠে চা-চক্রে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
শপথ অনুষ্ঠানে দরবার হলের প্রথম সারিতে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, সাবেক অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী সৈয়দা শামিলা রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান।
প্রথম সারিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সংসদের বিরোধী দলীয় দলের নেতা শফিকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানকেও দেখা গেছে।
দ্বিতীয় সারিতে ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন ও নৌবাহিনীর প্রধান খোন্দকার মিজবাহ উল আজীম।
এই সারিতে ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহলসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ছিলেন অতিথিদের কাতারে।