মন্ত্রিসভায় রদবদল, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন

পুরনো এক মন্ত্রীর দপ্তর বদলেছে, আরেকজন মন্ত্রী থেকে হয়েছেন উপদেষ্টা।

মন্ত্রিসভায় রদবদল, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রথমবার রদবদল আনলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তার সরকারে যুক্ত হয়েছেন চারজন নতুন মন্ত্রী, তাদের একজন আগে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

আর নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দুজন, তাদের একজন আগে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

শুক্রবার (২১ অগাস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পরপরই তিনি চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন হয়ে গেছে, প্রজ্ঞাপনও জারি হবে।

মির্জা ফখরুলের ছেড়ে আসা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির প্রবীণ নেতা আবদুল মঈন খান।

খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে ২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মঈন খান বর্তমানে নরসিংদী-২ আসনের এমপি।

আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হচ্ছেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন।

গত আড়াই মাস ধরে খালি থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও তিনি এমপি হয়েছিলেন। বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পাওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়েরই মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।

নতুন প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

আর প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা হুমায়ুন কবিরকে পরররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

কিন্তু ওই মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এক মন্ত্রণালয়ে দুইজন প্রতিমন্ত্রী থাকলে তো অসুবিধা নেই।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।

মন্ত্রীদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরে স্পিকারের দায়িত্ব পান। আর প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কায়সার কামাল গত মার্চে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পান।

হাফিজ উদ্দিনের জায়গায় মন্ত্রিসভায় আসেন আহমেদ আযম খান। আর ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পদও শূন্য হয়। আর শুক্রবারের রদবদলে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন।

ফলে সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সরকারে মন্ত্রীর সংখ্যা হল ২৬ জন, আর প্রতিমন্ত্রী থাকলেন ২৪ জন।

এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা ছিলেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় এবং জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী থেকে উপদেষ্টা হওয়ায় উপদেষ্টাদের মোট সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন হল না।