ট্রাম্পের ছেলেকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের ভিডিও বার্তা

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ট্রাম্পের ছেলেকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের ভিডিও বার্তা

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। ওই ভিডিও নিয়ে এরইমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র নেট হেরিং ট্রাম্পের ছেলেকে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার বিষয়টি প্রকাশ করেন।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এক ই-মেইল বার্তায় হেরিং বলেন, ‘ভিডিওটি সম্পর্কে আমরা অবগত এবং আমাদের সুরক্ষার অধীনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে- এমন যেকোনো বিষয় আমরা তদন্ত করি। তবে কার্যক্রমের নিরাপত্তাজনিত কারণে সুরক্ষা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আমরা আলোচনা করি না।’

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভিডিওতে দাবি করা হয়, ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পকে পূর্ণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাকে হত্যার জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে তেহরান।

এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, গত এক বছরে ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে- এমন বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক সতর্কবার্তা পেয়েছে। কর্মকর্তাদের অথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন থেকে ফেরার পথে ইরানি হামলার শঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের বিষয়টিও বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে।

ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সম্ভাব্য ‘হত্যার তালিকায়’ তিনিই প্রথম ব্যক্তি।

এদিকে গত সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরান তার দুই ছেলের একজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

চ্যানেল ফোরটিন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা ঘটেছে। ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তারা আমার ছেলেকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল।’

নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে ইরান দুই ছেলের মধ্যে কোন ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, তা স্পষ্ট নয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শুরুতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। এরপর থেকেই ইরানি হামলার তালিকায় আছেন ট্রাম্প, নেতানিয়াহুসহ তাদের পরিবার ও ঘনিষ্ঠভাজনরা।