নিজস্ব সংবাদদাতা
রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বছরের পর বছর ধরে কালীগঞ্জে গড়ে তোলা মাদক বাণিজ্যের হোতা মো. জয়নাল আবেদীন ওরফে মিন্টুকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এলাকায় তিনি পরিচিত ‘ইয়াবা সম্রাট’ নামে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে ধরা হয়।
ডিবির মতিঝিল বিভাগের একটি দল বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বনানী থানাধীন মহাখালীর আমতলা-তিতুমীর কলেজগামী সড়কে অ্যাডভান্স নুরানী টাওয়ারের সামনের ফুটপাতে অভিযান চালায়। এ সময় তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ ধরা পড়েন জয়নাল আবেদীন। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে জিডিএল ব্র্যান্ডের জি৮ প্লাস মডেলের একটি মোবাইল ফোনও পাওয়া যায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মো. আক্তার হোসেন জানান, গ্রেপ্তার মিন্টুর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর ডিবি কার্যালয়ে জয়নাল আবেদীন ওরফে মিন্টু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, মিন্টুর মাদক কারবার সীমাবদ্ধ ছিল না শুধু একটি এলাকায়। কালীগঞ্জের জামালপুর, মোক্তারপুর, বক্তারপুর ও জাঙ্গালিয়া—এই চার ইউনিয়ন মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল তার নেটওয়ার্ক। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সরাসরি ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে তা পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই বিক্রি করতেন তিনি। অতীতেও একাধিকবার বড় চালানসহ তার গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রভাবশালী মহলের সহায়তা ছাড়া এত বড় পরিসরে মাদক ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে একাধিক সূত্র জানায়, মিন্টুর ব্যবসা বিস্তারে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার মদদ ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

যুবদল নেতা শফিকুজ্জামান সোহেলের সঙ্গে মিন্টু।
জানা গেছে, গাজীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুজ্জামান সোহেলের আপন চাচাতো বোন মোসলেমা বেগমের ছেলে মিন্টু। এই আত্মীয়তার সুবাদে দুজনকে প্রায়ই একসঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা যেত বলে জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ, এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই এলাকায় নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারতেন মিন্টু।
জয়নাল আবেদীনের বাড়ি কালীগঞ্জের জামালপুর ইউনিয়নের কলাপাটুয়া এলাকায়। তিনি ছিদ্দিক মোল্লা ও মোসলেমা বেগমের ছেলে।