গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের বারে বাগ্বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামের এক যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জনতার হাতে আটক হয়ে পরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮) শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদের বাড়ি শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকায়, বাবার নাম জয়নাল আবেদীন বহদ্দার। অন্যদিকে সোলাইমানের বাসা শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ওই রাতে কয়েকজন তরুণ বারে বসে মদ্যপান করছিলেন। এর মধ্যে তাদের কয়েকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি বাধে। খবর পেয়ে বাইরে থেকে আরও দুজন সেখানে গিয়ে দোতলায় রাশেদের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে হোটেলের বাইরে ভাঙা বোতল দিয়েও তাকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরপরই হামলাকারীদের একাংশ পালিয়ে গেলেও স্থানীয় জনতা সোলাইমানকে ধরে ফেলে। তাকে নিহত রাশেদের বাসভবন নুনিয়ারছড়ার ফিশারীঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তাকে থানায় নেওয়া হয়।
আহত সোলাইমানকে প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ভোরে তার মৃত্যু হয় বলে সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ এবং বারে কর্মরতদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
তিনি জানান, আলামত সংগ্রহসহ তদন্তকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের নির্দেশে বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা সবাই স্থানীয়। তাঁর ভাষ্য, লাইসেন্স ছাড়া মদ বিক্রির কোনো সুযোগ না থাকলেও শহরের অধিকাংশ বার এই নিয়ম না মেনেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ওসি মোহাম্মদ আলী আরও জানান, নিহত রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে এবং সোলাইমানের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।