বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে।
‘ঐক্যের বন্ধনে অটুট ডুয়েট’ প্রতিপাদ্যে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।
সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং কেক কেটে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য। পরে বর্ণাঢ্য এক র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে, শেষে বৃক্ষরোপণ করা হয়। দিনের পরের ভাগে শহীদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় গবেষণায় অবদানের জন্য শিক্ষকদের ‘একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় উপাচার্য বলেন, দেশে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত দুই যুগ ধরে একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণা সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখে চলেছে ডুয়েট।

তিনি বলেন, “টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে ডুয়েটকে উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিকতায় বিশ্বমানের করে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসও তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি জানান, ১৯৮০ সালে ‘কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা’ নামে যাত্রা শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, উদ্দেশ্য ছিল ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। ১৯৮১ সালে এর নাম হয় ‘ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’, আর ১৯৮৬ সালে তা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ নেয় ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ঢাকা’ (বিআইটি) নামে। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে বিআইটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পেয়ে বর্তমান নাম ধারণ করে। এ আন্দোলনে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান উপাচার্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমান। বক্তব্য দেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আকরামুল আলম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামাল-আল-হাসান, গবেষণা ও সম্প্রসারণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আবেদীন, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজ আলম।
দিনব্যাপী আয়োজনে আরও ছিল শিক্ষক-অ্যালামনাই রশি টানাটানি ও প্রীতি ভলিবল ম্যাচ, সাবেক শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ এবং জোহরের নামাজের পর কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।