গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৫৭ ঘণ্টা পরেও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি, বন্ধ আছে কয়েকটি ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সেবা।
রবিবার রাত ৩টার দিকে প্রকল্পের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) অফিসে আগুনের এই ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার রাতে তা জানা যায়।
আগুনে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, রবিবার গভীর রাতে বায়েকের পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া দ্রুত আশপাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের একজন সাইট ইনচার্জ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্তও গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। ফলে আন্তঃযোগাযোগে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রকল্পে কর্মরতরা।
সূত্র: বিডিনিউজ
এমনকি কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এবং সার্ভার রুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথিপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “সার্ভার রুমের প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।”
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কেউ কথা বলেনি, পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কবীর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।