গাজীপুরে পরকীয়ার বলি ডলি, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার তিন

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পাঁচ বছরের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ও বিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বেই ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

গাজীপুরে পরকীয়ার বলি ডলি, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার তিন

হাসমত আলী, বিশেষ প্রতিনিধি

গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকার একটি ডোবা থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিহতের পরকীয়া প্রেমিক ও তার দুই সহযোগীকে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পাঁচ বছরের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ও বিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বেই ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক–সংলগ্ন ভবানীপুরের একটি ডোবা থেকে একটি ব্রিফকেস ও একটি প্লাস্টিকের বস্তায় অর্ধগলিত অবস্থায় নারীর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নিহত ডলি আক্তার।

নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা এলাকায় একাই থাকতেন, চাকরি করতেন একটি পোশাক কারখানায়।

মামলার পর ছায়া তদন্তে নামে পিবিআই। প্রযুক্তি ও সোর্সের সহায়তায় গত ১২ সেপ্টেম্বর একে একে গ্রেপ্তার করা হয় মো. মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪), মো. মিশন ইসলাম (২২) ও তাঁর মা বানু আক্তারকে (৪৩)। তাঁরা সবাই গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

আদালতে সোপর্দ করা হলে গ্রেপ্তার তিনজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ সুপার জানান, একই কারখানায় চাকরির সুবাদে পরিচয় হয় ডলি ও মিশনের, এরপর গড়ে ওঠে পাঁচ বছরের পরকীয়া সম্পর্ক।

জবানবন্দি অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি যান মিশনের বাসায়। মা বানু আক্তারসহ তিনজন একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার অন্য কক্ষে চলে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে থেকে যান। পুরোনো বিরোধ ও বিয়ে নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে ডলিকে খুনের সিদ্ধান্ত নেন মিশন। তাঁকে ঘুমের ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়; ডলি ঘুমিয়ে পড়লে রাত দুইটার দিকে লুঙ্গি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ও মুখ চেপে ধরে হত্যা করেন মিশন। মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয় চৌকির নিচে।

পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কারের সময় মরদেহ দেখে ফেলেন বানু আক্তার। এরপর একটি স্যুটকেস আনেন মিশন, কিন্তু তাতে লাশ না ধরায় ব্লেড ও বঁটি দিয়ে মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করেন। একাংশ রাখেন স্যুটকেসে, অন্য অংশ পলিথিনে মুড়ে রাখেন বস্তায়।

বাসা পাল্টানোর কথা বলে বন্ধু মিল্টনকে ডেকে আনেন মিশন। মিল্টন সহায়তা করেন স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তোলায়। এরপর তিনজন মিলে অটোরিকশায় করে ভবানীপুরে গিয়ে ডোবায় ফেলে দেন লাশের দুই অংশ।