এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

গত জুলাইতে ১৯ বছরের মরিয়মের সঙ্গে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ সদস্যদের সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্সের (ন্যাম ভবন) একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুন নামে এক নারীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মৃতদেহটি পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে এখন সিআইডির ফরেনসিক দল ও পিবিআই কাজ করছে।

একই বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুল করিম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ খবর পায়। তাদের ধারণা, ঘটনাটি ঘটেছে বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে।

গত জুলাইয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম আলোচনার কেন্দ্রে আসেন। ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও বলে ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়ায়।

শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা দাবি করেছিলেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি। পরে গাজী নজরুল নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন।

এরপর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয় এবং তিনি রাজনৈতিক চাপে পড়েন। শেষ পর্যন্ত জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল দাবি করেন, ১৩ জুলাই তিনি প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে নিয়ে মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা ছিলেন।

তার দাবি, জোহরের নামাজের আগে তার গাড়িচালক এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর পাঁচ থেকে সাতজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে ফিরে এসে তারা তাদের জিম্মি করেন এবং এক লাখ টাকা আদায় করেন।

গাজী নজরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ব্যবহৃত ভাড়া করা গাড়িটিও আটকে রাখা হয় এবং দফায় দফায় কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি দাবি করেন, মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পুরোনো শত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।