গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) জাহাঙ্গীর আলমের সই করা দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে কারণ দর্শাতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে নাহিয়ান বিন অনিককে দেওয়া নোটিসে হয়েছে, ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল।
আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ শাহরিয়ার, সদস্য ইসরাফিল ইসলাম রাফিল, মাসুম রেজা, ইয়াসিন সাইফ, ইমরান হোসেন ইমন, মনিরুজ্জামান মনির, সৌরভুর রহমান সুজনকে সাংগঠনিক পদ এবং ছাত্রনেতা কাব্য সাহাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হল।
দুটি বিজ্ঞপ্তিই ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির অনুমোদন করেছেন বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রবিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিকের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হন।
আহতরা হলেন- অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মাদুদ এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. ইমন। অন্য দুজন হলেন সাইফ ও আসিফ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটস্থ ভিক্টোরিয়া পার্কের আঙিনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে ক্যাম্পাসের কলাভবন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। একপর্যায়ে সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের কর্মীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে নিকটবর্তী আদালতপাড়ায় আশ্রয় নেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় তারা স্ট্যাম্পসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে মিছিল ও স্লোগান দেন।
এর আগে গত বুধবার নবীন বরণ ও কনসার্ট চলাকালে রাত ১২টায় সংঘর্ষে জড়ায় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার গ্রুপের নেতাকর্মীরা। পরদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এই দুই নেতাকে শোকজ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় নাহিয়ান বিন অনিককে শোকজ করা হলেও সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি ছাত্রদল।
সূত্র: বিডিনিউজ
–