আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে ২৫ মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের কমিটি।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ঢাকার আদালতে হাজিরা দিয়ে রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফিরছিলেন। পথে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে তিনি ভ্যান থেকে নেমে পালিয়ে যান।
সোমবার সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বরখাস্তের কথা জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বরখাস্তদের মধ্যে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), তিনজন কনস্টেবল এবং ভ্যানের চালক একজন নায়েক। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে আছেন ডিসি (সদর দপ্তর)।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নাওজোড় এলাকায় পৌঁছে রাজা শৌচাগারে যেতে চান। সেখান থেকেই তিনি আর ফেরেননি।
জিএমপির পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হোসেন হাওলাদার জানান, ভ্যানে মোট ২৯ জন আসামি ছিলেন। পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। পাশাপাশি পালানোর ঘটনায় কার কতটুকু গাফিলতি ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পকেন্দ্রিক একটি মাদকচক্রের নেতা। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল, তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ২৫টি মামলার তথ্য মিলেছে।
জেনেভা ক্যাম্পে প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রগুলোর মধ্যে গত আড়াই বছরে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজাকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়। তখন পুলিশ তাঁর কাছ থেকে প্রচুর মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। সর্বশেষ গত ১৯ মে নেপাল থেকে ফেরার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি ধরা পড়েন। সে সময় তাঁর স্ত্রী ও শ্যালকও সঙ্গে ছিলেন।