দিল্লিতে আটককাণ্ডে জাতিসংঘের মন্তব্যকে ‘অনধিকার চর্চা’ বলল ভারত

দিল্লিতে আটককাণ্ডে জাতিসংঘের মন্তব্যকে ‘অনধিকার চর্চা’ বলল ভারত

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে গণআটকের ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) উদ্বেগকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অনধিকার চর্চা’ বলল ভারত।

জাতিসংঘের সংস্থাটির উদ্বেগ অমূলক উল্লেখ করে নিউ ইয়র্কে ভারতের প্রতিনিধিদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বিশ্বের অন্য প্রান্তের বড় আন্দোলনগুলোর দিকে ওএইচসিএইচআরের নজর দেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। সংবিধান এখানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার দিয়েছে। স্বাধীন বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যম তা সুরক্ষায় কাজ করছে। সব গণতন্ত্রের মতো জনশৃঙ্খলার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের ভেতরেই নাগরিকেরা এই অধিকার চর্চা করেন। কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী কাজ করে এবং প্রতিকারের জন্য আদালত সবার জন্য খোলা।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মী-সমর্থক ও বিরোধী নেতারা। এ সময় প্রায় হাজার হাজার মানুষকে আটক করে পুলিশ। রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে ইন্টারনেট, দিল্লি মেট্রো, বাস ও রেল চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

শনিবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক মুখপাত্র থামিন আল-খিতান জানান, দিল্লির আন্দোলনের আগে ও চলাকালে বিক্ষোভকারী, সুশীল সমাজের সদস্য, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের গণআটকের খবরে তারা উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার পূর্ণ সম্মান করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিবাদের ওপর বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে যৌক্তিকতা রক্ষা করা জরুরি।’ একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি।

এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারত জানায়, সংস্থাটির উদ্বেগ অহেতুক এবং ভারতের নিজস্ব বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। নিরপেক্ষ নীতি বজায় রেখে অন্যান্য দেশের বড় বিক্ষোভ নিয়েও সংস্থাটির সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে নামার পরপরই সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকেসহ দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। দলটির শীর্ষ নেতা ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী ছাড়া আটক বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।