নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার পদে বদলি হয়েছেন এস এম আদনান নোমান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৬ থেকে জারি করা অফিস আদেশে এ বদলির তথ্য জানানো হয়।
আদেশে স্বাক্ষর করেছেন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আযিযুর রহমান। আদেশে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সমন্বয়ের স্বার্থে এ বদলি করা হয়েছে।
ফতুল্লায় যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি ঘুষ ও সিন্ডিকেট গড়ার অভিযোগে সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসেন।
একই আদেশে আরও কয়েকজন সাব রেজিস্ট্রারকে বদলি ও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে: কালীগঞ্জের বর্তমান সাব রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান যাচ্ছেন শেরপুরের নকলা উপজেলায়। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সাব রেজিস্ট্রার মো. সাজ্জাদ হোসেন নিয়োগ পেয়েছেন শ্রীপুরে। শ্রীপুরের সাব রেজিস্ট্রার মো. সোহেল রানাকে পাঠানো হয়েছে নওগাঁর রানীনগরে। যশোরের ঝিকরগাছার সাব রেজিস্ট্রার মো. শাহীন আলম নিয়োগ পেয়েছেন টঙ্গীতে।
আদনান নোমানের কর্মজীবন
আদনান নোমানের নিজ জেলা বরিশাল। তিনি এ গ্রেডের সাব রেজিস্ট্রার। ২০১৩ সালের ২ মার্চ সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। এরপর তিনি বরিশালের হিজলা, পিরোজপুরের নাজিরপুর, ঝালকাঠির নলছিটি, বরগুনা সদর ও মাগুরা সদরে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ থেকে তিনি ফতুল্লায় কর্মরত আছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদেও আছেন।
ফতুল্লায় যেসব অভিযোগ
ফতুল্লায় যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পরই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, যোগদানের পরপরই তিনি কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারী ও অসাধু দলিল লেখককে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগ অনুযায়ী, জমির শ্রেণি ও দলিলের ধরন বুঝে ঘুষ নেওয়া। জমির প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে (আন্ডারভ্যালু) রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া। দাগ নম্বর বা নামজারির ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত টাকা আদায় উল্লেখযোগ্য। এসব লেনদেন হতো ‘কথিত সহকারী’দের মাধ্যমে, গোপনে। প্রতিটি দলিলের জন্য নির্ধারিত অঙ্কের ঘুষ দিতে হতো বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ আছে, তার আগের কর্মস্থলগুলোতেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল। সেখানে বেশির ভাগ অভিযোগ ছিল জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল রেজিস্ট্রি করা নিয়ে।
এ ছাড়াও ফতুল্লায় তার জীবনযাপন নিয়েও আলোচনা আছে। স্থানীয়ভাবে বলা হয়, তিনি প্রতিবছর গাড়ি বদলান এবং বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা করেন।