গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
গাজীপুরে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকেরা অবস্থান নিলে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয় বলে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
এর আগে গত সোমবার আন্দোলনের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তৌফিক হোসেন নামে এক শ্রমিক। মঙ্গলবার ঢাকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক মহাসড়কে নেমে আসেন। তাদের অবস্থানের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে গেলে শ্রমিকেরা তাদের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন বলে এসব সূত্র জানিয়েছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকার পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে বাংলাবাজার ও কাশিমপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
নিহত তৌফিক হোসেনের বয়স ৩৫ বছর। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেড নামে একটি কারখানায় কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, গত সোমবার বাহাদুরপুর এলাকায় সংঘর্ষের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন তৌফিক। তখন আন্দোলনকারীরা লাঠি ও ইট দিয়ে তার ওপর হামলা চালান বলে তাঁরা দাবি করেছেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া তৌফিককে স্বজনেরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তার মৃত্যুর পর বুধবার বাংলাবাজার এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মোট কয়টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।