গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে হামলায় গুরুতর আহত তৌফিক হোসেন (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালে তিনি মারা যান।
মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪৯ মিনিটে দৈনিক কালবেলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও তৌফিকের স্বজনেরা পত্রিকাটিকে জানিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। সোমবার আন্দোলনের সময় একটি হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তৌফিক।
তাদের ভাষ্য, এ সময় হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আন্দোলনরত শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করে উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি করেন। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদনে হামলাকারীদের “দুর্বৃত্ত” বলা হয়েছে। তবে তারা কারা, সে বিষয়ে আর কিছু জানানো হয়নি।
তৌফিকের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে। তিনি তবি খাঁর ছেলে।
তৌফিকের চাচা বাচ্চু মিয়া কালবেলাকে বলেছেন, পাঁচ বছর ধরে বাংলাবাজার এলাকায় থাকতেন তৌফিক। বাবার মৃত্যুর পর জীবিকার জন্য এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি লায়লা স্টাইলস নামক গার্মেন্টসে চাকরি নেন।
তৌফিকের স্কুলশিক্ষক প্রদীপ কুমার কালবেলাকে বলেছেন, বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের অভাব ঘোচাতে ঢাকায় গিয়েছিলেন তৌফিক।
তিনি বলেন, “আমরা শুনেছিলাম, তৌফিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। সকালে খবর এল, আইসিইউতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।”
এ ঘটনায় গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামিম কায়সার লিংকন তৎক্ষণাৎ তৌফিকের পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন।
কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তার কথা বলেন।