গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা মাদক পাচারকারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে ও শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে র্যাব-৭ এর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সর্দার শের আলী নামে একজন নিহত হন। র্যাবের দাবি সর্দার শের আলী ডাকাত দলের সর্দার ছিলেন। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ১২টির বেশি মামলা আছে।
শনিবার ভোরে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়।
চট্টগ্রাম র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে ডাকাত সর্দার শের আলীকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগীরা গুলি করে। র্যাবও পাল্টা গুলি করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ডাকাত সর্দার শের আলীর লাশ উদ্ধার করে র্যাব। এছাড়া, ঘটনাস্থল থেকে ৩টি দেশীয় অস্ত্র ও ১৩ রাউন্ড গুলি, ৪টি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বিজিবির তিন সদস্য।
আজ ভোরে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ নদীর তীরবর্তী মোচনী লবণ মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়সল হাসান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়সল হাসান খান বলেন, ‘ভোরে টেকনাফের নাফ নদীর তীরবর্তী মোচনী লবণ মাঠ এলাকার ছুরিখালের মোহনা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় একটি চালান আসছে এমন খবরে বিজিবির একটি দল অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে নদী তীরে ২-৩ জনকে আসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা থামার জন্য নির্দেশ দেয়। লোকগুলো পালানোর চেষ্টা করে। বিজিবি ধাওয়া দিলে তারা গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবির সদস্যরাও পাল্টা গুলি করে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ২ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা, একটি দেশীয় বন্দুক, একটি গুলি ও একটি কিরিচ দা উদ্ধার করা হয়।’
নিহতরা হলেন, উখিয়া উপজেলার বালুখালী একব নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এইচ-৩৯ ব্লকের বাসিন্দা হাবিব উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ ফেরদৌস (৩০) ও একই ক্যাম্পের এইচ-২০ ব্লকের বাসিন্দা মৃত ছৈয়দ আহমাদের ছেলে আব্দুস সালাম (৩৫)।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুদরত আলী মণ্ডল (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত কুদরত আলী মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে ৬টি মামলা রয়েছে।
শুক্রবার রাত ১টায় উপজেলার ডাংমড়কা সেন্টার মোড় নামক এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধ হয়।
কুদরত আলীর বাড়ি উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ গ্রামে। তার বাবার নাম নিয়ামত আলী।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তুল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, একটি দেশীয় অস্ত্র ও ৪৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের গোপন সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ওই এলাকায় অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।