গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান (নৌকা) বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।
মেয়র হিসেবে টানা চতুর্থবারের মতো জয় পেয়েছেন আনিছুর রহমান।
নির্বাচনে আনিছুর রহমান পেয়েছেন ২৩ হাজার ৪৮৬ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শ্রীপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৬ ভোট। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফরহাদ আহমেদ মোমতাজী (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬১ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহআলম (জগ) পেয়েছেন ৩ হাজার ৯২১ ভোট।
শনিবর (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীপুর পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বেসরকারিভাবে এ ফালাফল ঘোঘণা করেন।
কাউন্সিলর পদে বেসরকারীভাবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, ১নং ওয়ার্ডে আহমাদুল কবির মন্ডল দারা (উট পাখি), ২নং ওয়ার্ডে মাসুদ প্রধান (পাঞ্জাবি), ৩নং ওয়ার্ডে সাহিদ সরকার (উট পাখি), ৪নং ওয়ার্ডে কামরুজ্জামান মন্ডল (উট পাখি), ৫নং ওয়ার্ডে রমিজ উদ্দিন সরকার (পানির বোতল), ৬নং ওয়ার্ডে হাজী কামাল মাহমুদ (উট পাখি), ৭নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ (পানির বোতল), ৮নং ওয়ার্ডে আলী আজগর বেপারী (পানির বোতল) এবং ৯নং ওয়ার্ডে আমজাদ হোসেন (পানির বোতল)।
সংরক্ষিত আসনে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে নাজমা বেগম (চশমা), ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে মমিনা বেগম বুলবুলি (চশমা) এবং ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে আফরোজা আক্তার (চশমা) বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। ভোট কেন্দ্রের বুথে বুথে প্রবেশ ও এজেন্টদের সাথে কথা বলার অভিযোগে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শাহআলমকে (জগ) আটকের দেড় ঘন্টা পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, কেওয়া তমির উদ্দিন আলীম মাদ্রাসা (মাওনা চৌরাস্তা) কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের সোবাহান মুন্সীর ছেলে এমদাদা খলিফা (৭০) নিহত হয়েছেন।
নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বলেন, দুপুর ২টার দিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শাহ আলমকে (জগ) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থানায় নিয়ে যান। ভোট কেন্দ্রের বুথে বুথে প্রবেশ ও এজেন্টদের সাথে কথা বলার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে দুপুর ২টার দিকে ৩নং ওয়ার্ডের লোহাগাছ ভোট কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করা হয়।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই ) সামিয়া জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরে নির্দেশে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শাহ আলমকে বিকেল সাড়ে তিনটায় থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এসআই সামিয়া জানান, কেওয়া তমির উদ্দিন মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে এমদাদ খলিফা (৭০) নামে এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি কেওয়া পশ্চিমখন্ড এলাকার সোবাহান মুন্সীর ছেলে।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটার উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে জমে উঠে শ্রীপুর পৌর নির্বাচন।
পৌরসভা নির্বাচনে চারজন মেয়র প্রার্থী, এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৭ হাজার ৯৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৩ হাজার ৮৩২ জন এবং মহিলা ভোটার ৩৪ হাজার ১০৩ জন।
এর মধ্যে মোট ৪১ হাজার ২৬৪ জন ভোটার ২৬টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ৮২ টি ভোট বাতিল হয়েছে।