অভিযুক্ত বা বিতর্কিতরা কীভাবে আওয়ামী লীগে?
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : আওয়ামী লীগে ‘হাইব্রিড’ ও ‘কাউয়া’ শব্দটি বহুল প্রচলিত। তাদের তালিকা করার কথাও বলা হয়েছিল। তা করা হয়নি, কিন্তু হালে উপকমিটির বিতর্কিত লোকজন নিয়ে আবার শুরু হয়েছে আলোচনা।
রিজেন্ট সাহেদ ও হেলেনা জাহাঙ্গীরের পর এখন আলোচনায় এসেছেন জামাল হোসেন মিয়া। জামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি। চট্টগ্রামের চোরাই গাড়ির আসামিদের তালিকায় তিনি ‘পলাতক’৷ এমন একজনও এখন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য।
রিজেন্ট সাহেদ ছিলেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য। আর হেলেনা জাহাঙ্গীর মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য৷ এই দুইজন এখন কারাগারে আছেন।
২০১৯ সালের ক্যাসিনোকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘হাইব্রিড’ ও ‘বহিরাগত’দের নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়। তখন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিও ভেঙে দেয়া হয়। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে এখন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম ওই দুইটি সংগঠনের নতুন কামিটি করা হয়েছে। তখনই সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও তার ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনে বহিরাগত, হাইব্রিড, বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত তেমন এগোয়নি।
আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি করা হয়েছিল সাবেক ত্যাগী ও যোগ্য ছাত্রলীগ নেতাদের অন্তর্ভূক্ত করার জন্য। যেহেতু আওয়ামী লীগ অনেক বড় সংগঠন আর কেন্দ্রীয় কমিটিতে সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হয় না। তাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে উপ কমিটির ব্যবস্থা চালু হয়। কিন্তু এখন সেখানে নানা ধরনের অনিয়ম হচ্ছে।’’
তার মতে, ‘‘দলের কিছু নেতার হাত ধরেই বিতর্কিত লোকজন দলের ভিতরে ঢুকছে। সাহেদ, হেলেনা জাঙ্গীর বা সর্বশেষ জামাল হোসেন মিয়ারা কাদের হাত ধরে উপ কমিটিতে ঢুকেছে এটা তো সবার জানা। এইসব বিতর্কিত লোকজনকে যারা দলে আশ্রয় দেন, তারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। এটা তৃণমূল পর্যায়েও হচ্ছে৷ কোনো কোনো নেতা তার গ্রুপ ভারি করার জন্য এইসব কাজ করছেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘এটা দুঃখজনক যে বঙ্গবন্ধুর গড়া রাজনৈতিক দলে তার আদর্শবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধীদেরও কোনো কোনো নেতা ঠাঁই দিচ্ছেন।’’
আলোচিত জামাল হোসেন যে তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সদস্য সেই কমিটির প্রধান (সম্পাদক) হলেন ড. সেলিম মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘‘তিনি তো একজন আইনজীবীও। আপনারা সেটা না লিখে আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য বিষয়টিকে কেন প্রাধান্য দিচ্ছেন? আর তিনি তো ২০১৬ সাল থেকে উপ কমিটির সদস্য৷ আগে ছাত্রলীগ করতেন। আমাকে আগের সম্পাদক তার নাম দিয়েছেন। আর তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তিনি তো সাজাপ্রাপ্ত নন। স্থানীয় পর্যায়ে শত্রুতামূলক মামলাও তো হতে পারে।’’
তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের নীতি হলো কোনো বিতর্কিত লোককে দলে জায়গা না দেয়া। আমার হাত দিয়ে সেরকম কেউ উপ-কমিটিতে ঠাঁই পায়নি।’’
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রীর নির্দেশ হলো কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে আমরা দলে জায়গা দেবো না। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আমরা দলে ঠাঁই দেই না।’’
সাব কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই কমিটি দলের সম্পাদকরা গঠন করেন। সেখানে বিশেষজ্ঞদেরও নেয়া হয়। শিক্ষক, প্রকৌশলী, নারী উদোক্তা- তারাও থাকেন। হেলেনা জাহাঙ্গীর নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সাব-কমিটিতে ছিলেন। মো. সাহেদ ঘটনার সময় সাব-কমিটিতে ছিলেন না। আগে একবার ছিলেন৷ একটি সাব কমিটিতে ৪০ জনের মতো সদস্য থাকেন। তাদের বায়োডাটা নেয়া হয়। বায়োডাটায় তো আর বিতর্কিত বিষয় লেখা থাকে না। নেতারাও হয়তো জানেন না। যখন জানা যায়, তখন ব্যবস্থা নেয়া হয়।
‘হাইব্রিড’ ও ‘কাউয়া’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগে কোনো হাইব্রিড বা সুবিধাবাদী নেই। দুই-একজন বিচ্ছিন্নভাবে ঢুকে পড়ে। আমরা জানার পর ব্যবস্থা নিই।’’
আরো জানতে…………..
কালীগঞ্জে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, সাবেক ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে মামলা
কালীগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিস থেকে অস্ত্র উদ্ধার: আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা
কালীগঞ্জে বৃদ্ধাকে নির্যাতন: ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা নাজমুল গ্রেপ্তার
কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে শ্লীলতাহানি: কালীগঞ্জ পৌর যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
যুবলীগ নেতাকে বাঁচাতে পুলিশের দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেনি আদালত: পূর্ণতদন্তের নির্দেশ
‘হত্যাকারী যুবলীগ নেতা’ সুব্রতকে বাঁচাতে মরিয়া পুলিশ?
কৃষ্ণহত্যার সাড়ে ছয় বছর পর চার্জশিট, টাকা নিয়ে চাকরি না দিয়ে হত্যা করেন আ.লীগ নেতা
হত্যায় জড়িত ‘প্রভাবশালী’, তাই পাঁচ বছরেও শেষ হচ্ছে না ব্যবসায়ী কৃষ্ণ হত্যা মামলার তদন্ত!



