‘বিদ্রোহ’ দমনে নতুন কৌশল, বিদ্রোহী না হলে দেয়া হবে আকর্ষণীয় প্রণোদনা!
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহ দমনের জন্য নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রথমে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবে তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে, নৌকার প্রতিপক্ষ হিসেবে যারা দাঁড়াবে তাদেরকে আজীবন দল থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কোনদিন নৌকা প্রতীক দেয়া হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের এই ধরনের ঘোষণার পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পরও বিদ্রোহ দমন হয়নি। বরং বিদ্রোহী প্রার্থীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
প্রথম ধাপ, দ্বিতীয় ধাপের চেয়ে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে বিদ্রোহীরা ভাল ফলাফল করেছে। আর এই বিদ্রোহীদের একটি বড় অংশই দেখা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংকট সময়ের ত্যাগী পরীক্ষিত কর্মী, যারা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলো, আওয়ামী লীগের কঠিন সময়ে লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে, নানারকম নির্যাতন ভোগ করেছে। আর এ কারণে আওয়ামী লীগ এখন বিদ্রোহীদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে।
আওয়ামী লীগ এখন মনে করছে যে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থীদের সাথে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ফলাফল হিতে বিপরীত হতে পারে। আর এ কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া নিয়ে তাদেরকে বুঝানো এবং ভবিষ্যতে তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে বা ভবিষ্যতে তাদেরকে যথাযথ পুরস্কার দেওয়া হবে, এরকম আশ্বাস দিয়ে বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, একটা ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন এবং এই যোগ্য প্রার্থীদের যে কাউকেই যদি মনোনয়ন দেওয়া যায় তাহলে তারা ভাল ফলাফল করবে। একাধিক যোগ্য প্রার্থীর মধ্যে হয়তো একজনকে বেছে নেয়া হয়েছে, আর সে কারণেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অন্য যারা যোগ্য প্রার্থী তারা যেন আশাহত না হয় এবং রাজনীতিতে নিজেদেরকে গুটিয়ে না ফেলে সেইজন্য আওয়ামী লীগ কিছু আকর্ষণীয় প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে।
যারা বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে বসে যাবেন তাদেরকে ভবিষ্যতে কমিটিগুলোতে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হবে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদেরকে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সংগঠনের দায়িত্বে তাদেরকে আরও সক্রিয় করা হবে। এছাড়াও যে সমস্ত প্রার্থীরা বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে বসে যাবেন তাদেরকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে। ভবিষ্যতে পুরস্কৃত হওয়ার আশ্বাস দিলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহ অনেকটাই দমন হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল মহল। আর সে কারণেই এখন যে সমস্ত এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়ে বসানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেছেন যে, আমরা জানি যে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন যারা যোগ্য এবং যাদের আওয়ামী লীগের জন্য অনেক অবদান রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে এটা বুঝতে হবে যে, তারা যখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন তখন সেটি দলের জন্যই ক্ষতিকর হবে। এর ফলে তাদের যে ত্যাগ সেটি আর মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। বরং তাদের এখনকার বিদ্রোহী হওয়াটাই বেশি করে সামনে আসছে। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, তাদের ক্ষোভ প্রশমনের জন্য তাদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি সহাবস্থানের নীতি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। আর এই কাজটি আওয়ামী লীগ এখন করা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: বাংলা ইনসাইডার



