প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসএসসির ফলাফল হস্তান্তর
গাজীপুর কণ্ঠ, শিক্ষা ডেস্ক : করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে, যে ফল জনার অপেক্ষায় আছে সোয়া ২২ লাখ শিক্ষার্থী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সারেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন বছরের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এবার নয়টি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৯৪.০৮, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯৩.২২ শতাংশ ও কারিগরিতে ৮৮.৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৯৬.২৭, চট্টগ্রামে ৯১.১২ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৯৪.৭১ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৯০.১৯ ও সিলেট বোর্ডে ৯৬.৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
মূল অনুষ্ঠানটি হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষমন্ত্রী দীপু মনি সব বোর্ডের প্রধানদের কাছ থেকে এবারের ফলাফলের অনুলিপি গ্রহণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাউসে ক্লিক করে ডিজিটালি ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানিকতা সারে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাওয়া যাবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
এবার কত শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, সে তথ্য অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়নি। বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে ফেব্রুয়ারিতে মাধ্যমিকের পরীক্ষা হয়ে আসছিল। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার নয় মাস পিছিয়ে ১৪ নভেম্বর এ পরীক্ষা শুরু হয়।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে ২০২০ সালের মার্চে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাতে দশম শ্রেণিতে আড়াই মাস শ্রেণীকক্ষে ক্লাস করার সুযোগ পায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
অনলাইনে ক্লাস চললেও ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার পর দেড় মাস শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে হয়েছে তাদের।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এ বছর পরীক্ষাও হয়েছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। তিন ঘন্টার পরিবর্তে পরীক্ষা হয়েছে দেড় ঘন্টায়। কেবল তিনটি নৈর্বচনিক বিষয়ের পরীক্ষায় বসতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
বাংলা, ইংরেজির মত আবশ্যিক বিষয়গুলোতে এবার পরীক্ষা না নিয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
>> ২০২১ সালে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী ছিল ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন।
>> ৩ হাজার ৬৭৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ২৯ হাজার ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।
>> এর মধ্যে ৫ লাখ ৬ হাজার ৮৩১ জন বিজ্ঞান, ৯ লাখ ২৪ হাজার ৮৫ জন মানবিক ও ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮২ জন বাণিজ্য বিভাগে পরীক্ষা দেয়।
>> নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে এবার ১৮ লাখ ৯৯৮ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখ ১ হাজার ৮৮৭ জন ও কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ২৪ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থী ছিল।
এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার ছিল অনেকটা বেশি। এর পিছনে মহামারীর প্রভাবকে দায়ী করেছিলেন পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়। এর আগেই গত বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিতে পেরেছিল সরকার।
সে বছর ২০ লাখ ৪০ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পায় এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাসের হার ছিলো রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে (৯০.৩৭%), সবচেয়ে কম সিলেট বোর্ডে (৭৮.৭৯%)। আর সবচেয়ে বেশি ৩৬ হাজার ৪৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ঢাকা বোর্ডে।
ফলাফল জানা যাবে যেভাবে
প্রতিবারের মত এবারও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মুঠোফোন থেকে এসএমএস পাঠিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল জানা যাবে।
বুধবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে পরীক্ষার্থীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে এসএসসির ফল পাওয়া যাবে।
মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে SSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসেই ফল পাওয়া যাবে।
দাখিলের ফল পেতে Dakhil লিখে স্পেস দিয়ে Mad লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।
কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রে SSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানানো হবে।
এছাড়া জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অফিস থেকে ফলাফলের কপি সংগ্রহ করা যাবে বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।



