কাপাসিয়ায় বাবার বাড়ি যেতে চাওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার: ১১ ঘন্টায় চার্জশিট দাখিল
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কাপাসিয়া থেকে বাবার বাড়ি শ্রীপুরে যেতে চাওয়ায় সুমাইয়া বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূরকে গলাটিপে হত্যার পর লাশ ঘরের খাটের নিচে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় ঘাতক স্বামী জসিম উদ্দিন প্রধানকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর মাত্র ১১ ঘন্টায় ঘটনার তদন্ত শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
নিহত গৃহবধূ সুমাইয়া বেগম শ্রীপুরের গোসিংগা ইউনিয়নের হায়াতখাঁরচালা এলাকার জজ মিয়ার মেয়ে।
ঘাতক স্বামী জসিম উদ্দিন প্রধান কাপাসিয়ার মধ্যপাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলী প্রধানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাপাসিয়ার মধ্যপাড়া এলাকা থেকে সুমাইয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরআগে দিনভর সুমাইয়ার কোন খোঁজ না পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ঘরের তালা ভেঙ্গে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে বাড়ি থেকে তার স্বামী জসিম উদ্দিন প্রধানকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ। এরপর পুলিশ হেফাজতে থাকা জসিম উদ্দিন প্রধানকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে সে। অপরদিকে সোমবার সকালে নিহতের ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এছাড়া সোমবার সকালে নিহতের মা ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন {মামলা নাম্বার ৭(২)২২}। বিকেলে আসামী জসিম উদ্দিন প্রধানকে আদালতে পাঠানো হলে ঘটনার দায় স্বীকার করে সে স্বীকারমূলক জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে জসিম উদ্দিন প্রধান তার শশুরবাড়ি শ্রীপুর থেকে স্ত্রী সুমাইয়া বেগমকে নিজের বাড়ি নিয়ে আসে। এরপর স্ত্রী সুমাইয়া পুনরায় বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য পীড়াপিড়ি করে। সে সময় জসিম তাকে বাবার বাড়ি যেতে নিষেধ করে। এতে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেড় ধরে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে আসামি জসিম উদ্দিন প্রধান তার স্ত্রী সুমাইয়া বেগমকে গলাটিপে হত্যা করে এবং লাশ বসত ঘরের খাটের নিচে রেখে বাইরে তালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাপাসিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গৃহবধূ সুমাইয়া বেগমকে হত্যা মামলায় সোমবার বিকেলে জসিম উদ্দিন প্রধানকে গাজীপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জেনিফার জেরিনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে জসিম উদ্দিন প্রধান ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার বাদীসহ মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও মামলা দায়েরের ১১ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে গৃহবধূ সুমাইয়া বেগম হত্যা মামলার একমাত্র আসামী ঘাতক স্বামী জসিম উদ্দিন প্রধান গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে ঘটনার দায় স্বীকার করে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। অপরদিকে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডাঃ শাফী মোহাইমেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তাৎক্ষণিক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। এর প্রেক্ষিতে মামলা দায়েরর পর মাত্র ১১ ঘন্টার মধ্যে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলা রুজুর মাত্র ১১ ঘন্টার মধ্যে একমাত্র আসামীকে গ্রেপ্তার ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে মামলার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করায় জনমনে কাপাসিয়া থানা তথা গাজীপুর জেলা পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।



