কালীগঞ্জে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবদল নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে সোহেল আহম্মদ (৩৮) নামে এক যুবককে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বরই গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবদলের এক নেতাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
শনিবার দিবাগত মধ্যে রাতে নিহতের ভাই সোহাগ মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে পরস্পর যোগসাজসে হত্যার অপরাধে ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, সোহল আহম্মদকে হত্যার ঘটনায় শনিবার দিবাগত মধ্যে রাতে ১০ জনকে আসামি করে নিহতের ভাই সোহাগ মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে {মামলা নাম্বার ১৫(২)২২}।
নিহত সোহেল আহম্মদ বাহাদুরসাদী ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহাদুরসাদী মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল সালামের ছেলে।
অভিযুক্তরা হলো, দক্ষিণবাগ এলাকার মঞ্জুরের মেয়ে জেরিন (২৫) ও তার স্বামী জামালপুর হাজী বাড়ির ফিরোজ শেখের ছেলে মামুন শেখ (৩৫), দক্ষিণবাগ এলাকার মঞ্জুরের মেয়ে বন্যা (৩২), ছেলে জুবায়ের (২০), মঞ্জুরের স্ত্রী জুলেখা (৫৫), বাহাদুরসাদী এলাকার আব্দুল ছাদেকের ছেলে শরীফ (৩২) ও তার স্ত্রী দক্ষিণবাগ এলাকার মঞ্জুরের মেয়ে জেমি (৩০), বন্যার স্বামী শুকুর আলী হিমেল (২৮), এছাড়াও সাগর (৩৬) ও মাকসুদা (২৮) নামে দুই আসামি রয়েছে। তাদের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ নেই এজাহারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মামুন শেখ জামালপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য। তার স্ত্রী জেরিনের সঙ্গে বিয়ের পূর্বে নিহত সোহেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে সম্পর্ক বিয়ের পরে পরকীয়া সম্পর্কে রূপ নিয়েছে এমন সন্দেহ থেকেই সোহেলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
বাদীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্ত জেরিন ২৫ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) রাত ৯টার দিকে বাসা থেকে সোহেলকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে মামুন নামের একজন বাদীর ফোন করে কল দিয়ে জানায় সোহেলকে দক্ষিণবাগ জেরিনদের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর পূণরায় বাদীকে ফোন দিয়ে জেরিনদের বাড়ি যেতে বলে। রাত বেশী হওয়ায় বাদী না গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায় এবং স্থানীয় পনির মেম্বার জেরিনদের বাসায় যায়। পরে বাদী জানতে পারে পনির মেম্বার পল্লী চিকিৎসক দিয়ে সোহেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় সিএনজিতে করে সোহলকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি সকালে জানতে পরে বাদী সকাল আটটার দিকে হাসপাতলে গিয়ে সোহেলের শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ দেখতে পান। এছাড়াও সোহেলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নীলাফুলা জখম, বাম পা ভাঙ্গা এবং বাম পায়ের গোড়ালি এবং হাঁটুর মাঝখানে ভাঙ্গা ও রক্তাক্ত জখম দেখতে পায়। এর কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহলকে মৃত ঘোষণা করেন। বাদীর অভিযোগ অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সোহেলকে রাত দশটা থেকে সাড়ে বারোটার মধ্যে জেরিনদের বাড়ির উঠানে বরই গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে বাঁশ, কাঠের টুকরো ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে উঠানে ফেলে রাখে। পরিকল্পিত এই মারধরের কারণেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিন্টু মিয়া বলেন, ঘটনার পর থেকে সকল আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
এ সংক্রান্ত আরো জানতে……..



